নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে বোরো মৌসুমে ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ পানি সাশ্রয়ের জন্য গ্রহণ করা পার্টনার প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) প্রযুক্তি নির্ভর প্রদর্শনী ভেস্তে যায়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলেও কিছু একটা গোপন করতে শুরুতেই লুকোচুরি খেলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে তদন্ত আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা- তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. মেহেদুল হাসান ও উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণেই রহস্যের দানা বেঁধেছে ও কিছু একটা আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চারজন কৃষককে উপজেলা কৃষি অফিসে ডেকে এনে কথা বলা হয়।
একে তো অবহেলাজনিত কারণে প্রদর্শনী ভেস্তে যায়, তার উপর প্রদর্শনীর নামে বরাদ্দের সব উপকরণ কৃষকরা পায়নি বলে অভিযোগ তুলেছে। এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মেহেদুল বলেন, অফিসের ও মাঠের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার জন্য গিয়েছিলেন, এডব্লিউডি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি, কৃষকরা কী বললেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তদন্তের বিষয় আপনাকে বলবো না। আহ্বায়ক অন্য আরেকজন আছে, এটা নিয়ে ডিডি’র সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ উপ-পরিচালক মনজুর বলেন, আমার তো ফ্রি কুইন্টলি সব অফিসেই যাই, এডব্লিউডি’র তদন্ত সম্পর্কে বলেন একটি স্রোত যখন মুভ করে তখন হুট করে থামাতে পারবেন না। সূত্র জানায়, চকবলরাম গ্রামের কৃষক ওসমান আলী, কালীগ্রাম কসবাপাড়া গ্রামের বাবু সরদার, জলকৈ গ্রামের কামরুল ইসলাম জানান, প্রদর্শনীর জন্য কী কী উপকরণ- তা আমাদের বলা হয়নি। ইউরিয়া সার ৪ বস্তার স্থলে ৩ বস্তা, ডিএপি ৩ বস্তার স্থলে ২ বস্তা, এমওপি ১২০ কেজির স্থলে ১০০ কেজি দিয়েছে, বিতরণ করা ড্রামের দাম ৬শ’ বা ৭শ’ টাকা হবে, বোরন ৩ কেজির স্থলে ছোট ২/৩ প্যাকেট, জিপসাম ৬০ কেজির স্থলে ৪০ কেজি, জৈব সার ১৫০ কেজির স্থলে ৮০ কেজি, শ্রমিক বাবদ ১ হাজার টাকা দেয়া হয়নি, ৬ কেজি জিংক সালফেটের (মনো) স্থলে ৫ কেজি, বালাইনাশক ও আগাছানাশক ৩ হাজার টাকার স্থলে ৩শ’ টাকা দিয়েছে। এভাবেই কৃষকের বরাদ্দ নয়ছয় করে বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ না দেয়া, অবহেলা ও অনিয়ম দুর্নীতির জাঁতাকলে পড়ে সফলতার মুখ দেখেনি বলে কৃষকদের অভিযোগ। উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. মোস্তাকিমা খাতুনকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম তদন্ত শুরু হওয়ার কথা স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপ-এ কল দিতে বলেন।
