সরকারি নিয়ম-নীতি ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে দিন ও রাতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘীরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষের নিয়মিত পাঠদানের বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করেই প্রাইভেট পড়াচ্ছেন ওই স্কুলের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজুল ফকির। সম্প্রতি সরজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি ভবনের দোতলায় রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন ওই শিক্ষক।
এ সময় সেখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত দেখা যায়। সাংবাদিকদের কাছে শিক্ষক আজিজুল ফকির দাবি করেন, তিনি মূলত ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পড়ান এবং এর বিনিময়ে কোনো টাকা নেন না। তবে রাতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর বিষয়টি নিয়মের বাইরে বলেও তিনি স্বীকার করেন। বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা মিম ও ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তারা সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্কুলে প্রাইভেট পড়তে আসে এবং এশার নামাজের সময় বাড়িতে ফিরে যায়। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জোনায়েদ ভূঁইয়া ও ফাহিমুল ইসলাম জানায়, তারা সকাল ও রাত দুই বেলাই আজিজুল স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে। এজন্য তারা মাসে এক হাজার টাকা করে দেয়। শিক্ষক আজিজুল তাদের সব বিষয়ই পড়ান বলেও তারা জানায়।
এ বিষয়ে দিঘীরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আজিজুলের পড়ানোর বিষয়টি আমি জানি। তবে তাকে দাপ্তরিকভাবে কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আজীযী বলেন, স্কুলের শিক্ষক তার নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবেন না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানের বাইরে দিনের পাশাপাশি রাতেও নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এভাবে প্রাইভেট পড়ানোর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
