ঋণের চাপে সপরিবারে পটিয়ায় আত্মগোপনে চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী

ঋণের চাপে সপরিবারে পটিয়ায় আত্মগোপনে চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী

ফন্ট সাইজ:

ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে সপরিবারে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস। প্রায় দুই মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ তাকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে পটিয়া উপজেলার ধলঘাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে দুইদিন ধরে নজরদারি চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার ভোরে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরে তাদের আটক করে চাঁদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের স্বর্ণপট্টিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন পিন্টু দাস। সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। পরে হঠাৎ দোকান বন্ধ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। স্বর্ণ ফেরত না পাওয়ায় গত ২৪শে আগস্ট তিনি পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেন বলে জানান। এ ছাড়া দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।

এরআগে, বুধবার (২৬শে আগস্ট) চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালেও বিষয়টি ছিল আত্মগোপনের ঘটনা। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালাম বলেন, ‘একটি জিডির প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুইদিন ধরে নজরদারি চালানো হয়। পরে পটিয়ার ওই বাসায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ভোরে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস জানিয়েছেন, ব্যবসার ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান।’ পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎস যশ চাকমা মানবজমিনকে বলেন, পটিয়ার ধলঘাট এলাকা থেকে থানার একটি টিমের সহায়তায় সকাল ৭টার দিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়। পরে তাদের চাঁদপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।