রোমান্টিক ঘরানার নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ জারির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমের প্রযোজক, নির্দেশক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মিলিত সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার রাতে এক যৌথ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের পক্ষে এই প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ জারির বিষয়টি টেলিভিশন ও বিনোদন অঙ্গনের পেশাজীবীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিও ভিজ্যুয়াল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পীর মত প্রকাশের অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনগুলোর নেতারা উল্লেখ করেন, একটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল মাধ্যমের নির্দিষ্ট কোনো ধারার নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কার্যক্রমকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। এতে আরও বলা হয়, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি কোনোভাবেই সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। টেলিভিশন শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মক্ষেত্র এবং দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে সংগঠনগুলো।
যৌথ এই প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন- শহীদুজ্জামান সেলিম (সভাপতি, ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ), ফরিদুল হাসান (সাধারণ সম্পাদক, ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ), আজাদ আবুল কালাম (সভাপতি, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ), রাশেদ মামুন অপু (সাধারণ সম্পাদক, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ), শিহাব শাহীন (সভাপতি, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ), মেজবাহ উদ্দিন সুমন (সাধারণ সম্পাদক, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ)সহ টেলিভিশন অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
