সিলেটে ব্যবসায়ী খুনে স্বীকারোক্তি ঘাতক জালালের

সিলেটে ব্যবসায়ী খুনে স্বীকারোক্তি ঘাতক জালালের

ফন্ট সাইজ:

শাহপরান এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন খুনের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছে ঘাতক রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালাল আহমদ। গ্রেপ্তারের পর প্রথমে পুলিশ ও পরে সিলেটের আদালতে সে খুনের ঘটনা স্বীকার করে। জালাল জানায়, প্রেমে বাধা দেয়ার কারণেই সে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিনকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। খুনের পর সে এলাকা ছেড়ে পালায়। পরে রেস্টুরেন্ট মালিকের কথায় সে ফিরে আসলে তাকে আটক করা হয়। বুধবার বিকালে সিলেটে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের পর জালালকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের তদন্ত ও জালালের বক্তব্য মিলে গেছে। এ ছাড়া খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত রামদাও উদ্ধার করা হয়েছে। সিলেট নগরের শাহপরান (রহ.) মাজার রোডের ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন। তিনি বয়োবৃদ্ধ। ওই রোডে তার ফাস্টফুডের একটি দোকান রয়েছে। পাশেই একটি রেস্টুরেন্ট।

ওই রেস্টুরেন্টে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কাজ করে জালাল আহমদ। তার বাড়ি সুনামগঞ্জে। প্রায় ১০-১২ বছর ধরে সে ওই দোকানে কাজ করছে। সোমবার মধ্যরাতে বাড়ি যাওয়ার পথে জালাল আহমদ রেইনকোট পরে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিনকে। দোকান থেকে ছড়ারপাড় বাসায় যাওয়ার পথে তাকে কুপিয়ে খুন করা হয়। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ভার্চ্যুয়াল তদন্ত চালিয়ে নিশ্চিত হয় রেইনকোট পরা ব্যক্তিই হচ্ছে ঘাতক। সে দোকান কর্মচারী জালাল আহমদ। সে পালিয়ে গেছে। পরে রেস্টুরেন্ট মালিকের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতে জালালকে নিয়ে আসা হয় শাহপরানের ওই রেস্টুরেন্টে। তার উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হন। প্রাণ বাঁচাতে জালাল অবস্থান নেয় রেস্টুরেন্টের পেছনে। ওই এলাকা কর্ডন করে এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা তাকে আটক করে পুলিশে দেন। পুলিশের হাতে যাওয়ার আগেই বিক্ষুব্ধ জনতার জিজ্ঞাসাবাদে জালাল খুনের ঘটনা স্বীকার করে। জালাল আটকের পর মামলার আসামি হিসেবে তাকে অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশ। শাহপরান থানা পুলিশ জানায়, রাতে জালালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে খুনের ঘটনা স্বীকার করে।

একাই সে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিনকে খুন করেছে বলে জানায়। বুধবার সকালে পুলিশ জালালকে নিয়ে খুনে ব্যবহৃত রামদা উদ্ধারে তল্লাশি চালায়। খুনের পর জালাল ব্যবহৃত রামদা পাশের একটি ডোবাতে ফেলে দেয়। পুলিশ তার দেখানো স্থান থেকে ওই রামদা উদ্ধার করে। এ সময় এলাকার শত শত মানুষও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জালাল স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদানে রাজি হলে বুধবার বিকালে তাকে সিলেটের আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট তার স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে গতকাল বেলা দুইটায় নিজ কার্যালয়ে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফ করেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।

তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার ও রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। পরে নিজ ইচ্ছায় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি জানান- পুলিশ দ্রুত এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে পুলিশ ও পরে আদালতে ঘাতক জালাল জানিয়েছে- হোটেলে প্রায় ১০-১২ বছর ধরে বাবুর্চির কাজ করে রেহেনা পারভীন নামের এক মহিলা। ৭-৮ বছর আগে ওই মহিলার স্বামী মারা গেলে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা দু’জন শারীরিকভাবেও মেলামেশা করে।

এ জন্য সুনামগঞ্জে থাকা তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে উঠতে দেন না। সে জানায়, ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন তাদের দু’জনের সম্পর্ক জানতেন। প্রায় সময় ওই বাবুর্চি মহিলা ও তাকে গালিগালাজ করতেন। তবে সে শাহাবউদ্দিনকে জানিয়ে দেয়; বাবুর্চি রেহেনা পারভীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক সে ছিন্ন করতে পারবে না। এরপরও ব্যবসায়ী শাসন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে খুন করেছে জালাল।