প্রতি বছরের মতো এবারো যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এ দিনটি উপলক্ষে দেশ জুড়ে জশনে জুলুস, আলোচনা সভা, মিলাদ-মাহফিল, দোয়া-মোনাজাত ও নানা ধর্মীয় কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্রবাহিনীর স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, বিভিন্ন স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হয়।
রাজধানী ঢাকায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুশ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া মাইজভাণ্ডারিয়ার উদ্যোগে জশনে জুলুশ বের করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি শাহ সূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারির নেতৃত্বে এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। ভোরের আলো ফোটার আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান পরিণত হয় মানুষের বিশাল মিলনমেলায়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ গেট থেকে জুলুসটি শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসুল সালামু আলাইকা’ ধ্বনিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মুখর হয়ে ওঠে। জুলুস শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, মানবিকতা, শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ জুলুশে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ অংশ নেন। সকাল ১০টার দিকে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে জুলুশ শুরু হয়। মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে জুলুশটি আবার জামেয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পুরো জুলুশের পথে হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে ওঠে নগরী।
এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ওয়াজ-মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবি ভাষায় খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
