দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর আগে দলের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গৌরবের ৪৮ বছর পার করেছে বিএনপি। অনেক সংগ্রাম, অনেক সংকট এবং অনেক শোককে ধারণ করেই বিএনপি’র পথচলা। আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচদিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আশা করি, আগামী ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাফল্যমণ্ডিত হবে। আমাদের দলের নেতাকর্মী, অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী তারা সবাই মিলে উদ্যাপন করবো।
তিনি বলেন, কর্মসূচিতে ১লা সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় অফিসে বিএনপি’র পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৯টায় দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যাবেন। সেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রথমে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর ৫ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে। এ ছাড়া, অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আছে- বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি।
রিজভী জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি ও এর ইউনিটসমূহ সুবিধাজনক সময়ে আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ করবে বিএনপি।
তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি মাতৃভূমির মুক্তির জন্য দিশাহীন জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে উজ্জীবিত করেছিলেন। সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিককে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেরণা ও উৎসাহ জুগিয়েছিলেন তিনি।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের এক ক্রান্তিকালে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর এই ক্ষণজন্মা মানুষটি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপ্রদীপের সামনে আসেন। রাষ্ট্রের হাল ধরার আগে যত অনাচার, অবিচার, গণতন্ত্র হরণ, হত্যা, কথা বলার স্বাধীনতা ও চলাচলের স্বাধীনতা যেভাবে লঙ্ঘিত হয়েছিল, তিনি ক্ষমতায় আসার পর সেসব পুনরায় চালু করেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়, নানা ভিন্ন মতাবলম্বী সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে থাকে এবং রাজনৈতিক দল করার অধিকার নিশ্চিত হয়। মানুষ ভয়ঙ্কর দুর্বিপাকের রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম, মহানগর বিএনপি’র আমিনুল হক, ইশরাক হোসেন, যুবদলের নুরুল ইসলাম নয়নসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
