‘বিতর্ক’ আর ‘নাটকীয়তা’র মধ্যে উজবেকিস্তানে যুবারা

‘বিতর্ক’ আর ‘নাটকীয়তা’র মধ্যে উজবেকিস্তানে যুবারা

ফন্ট সাইজ:

মাঠে নামার আগে বিতর্ক ও নাটকীয়তায় টালমাটাল অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্তের গুঞ্জন, সহকারী কোচের সঙ্গে তার হাতাহাতি, নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ, বেতন নিয়ে অসন্তোষ- সব মিলিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগে বাংলাদেশ দলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে হেড কোচ ও অধিনায়ককে রাখা হয়নি। মাঠের বাইরের এ বেগতিক অবস্থাকে সঙ্গী করে গতকাল উজবেকিস্তানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে অনূর্ধ্ব-২০ দল।

৩১শে আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের গ্রুপে স্বাগতিক উজবেকিস্তান ছাড়াও আছে ভারত ও সিরিয়া। এ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে পুরো দল প্রায় এক মাস ট্রেনিং ক্যাম্প করে। এরমাঝে বিতর্কে জড়ান দলটির হেড কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান। কথা কাটাকাটি এক পর্যায় ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। এরপর ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশি সহায়তা চান জোন্স। এই ঘটনার জেরে তদন্ত কমিটি করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন জোন্স ও আতিকুর। এর আগে গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যায়। গতকাল সেই সংবাদ সম্মেলনটি আবার হলেও কোচ ও খেলোয়াড় কাউকেই আনা হয়নি। টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেমের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও খেলোয়াড়দের না থাকার কারণ জানতে চাইলে সামিদ বলেন, ‘আমাদের প্রধান কোচ নেই আজ। কোনো খেলোয়াড় নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত কয়েক দিন আমাদের ভ্রমণ পরিকল্পনার অনেক সমস্যা হচ্ছিল। উজবেকিস্তান থেকে অনেক তথ্য শেষ মুহূর্তে এসেছে। ফেডারেশনও ব্যস্ত ছিল।

গণমাধ্যমে কয়েকটি খবরে দলকে নিয়ে যেটা আসছে, এটা আসলে একটু বিঘ্ন সৃষ্টির মতো ছিল। আমরা সবাই একসঙ্গে যাবো। এটা সবাই একমত হয়েছে। আজকে কোচকে সংবাদ সম্মেলনে আনিনি। কারণ আমাদের গত কয়েক দিন একটু ব্যস্ততার মধ্যে যাচ্ছে। দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত হতে তাদের মনোযোগী হওয়া জরুরি ছিল।’ দলের ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন শান্ত বলেও দাবি করেন সামিদ। তিনি বলেন, ‘এখন আমি বলতে পারি যে ক্যাম্পের পরিস্থিতি অনেকটা ঠান্ডাই আছে। আমরা ভালো অবস্থার মধ্যে আছি। সবাই এখন খেলতে রোমাঞ্চিত। তদন্তের আগে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দলকে আমরা ব্যাহত করতে চাচ্ছিলাম না।’ জেরার্ড কি নিজে সংবাদ সম্মেলনে আসতে চাননি? এমন প্রশ্নে সামিদ বলেন, ‘না, এটা আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল। ফিফার নিয়ম হচ্ছে কোচ থাকবে, না হলে সহকারী কোচ থাকবে। এএফসিতে যখন আমরা যাই, সেখানে বাধ্যতামূলক সংবাদ সম্মেলনে অবশ্যই আমাদের প্রধান কোচ থাকবে। আমাদের মনোযোগ এখন বাছাইপর্বের অভিযান। আমরা যদি মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে মনোযোগ দিই, দলের মনোযোগে আরও ব্যাঘাত ঘটবে। এই বিশেষ পরিস্থিতির জন্য আমরা দুঃখিত। কিছু তো ঘটছে। সেটার জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত হচ্ছে। আপনাদের জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।’ জোন্স অবশ্য সম্প্রতি আরেকটি বিতর্কে নাম তুলেছেন। গত ১০ই আগস্ট বেতন পাননি বলে ফেসবুকে পোস্ট করেন, নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেন।

বির্তক ও নাটকীয়তাকে পাশে রেখে বাছাইপর্ব বাধা টপকাতে চায় বাংলাদেশ। সেই মিশনে ৩১শে আগস্ট উজবেকিস্তান পরীক্ষায় নামবে যুবারা। এরপর ৩রা সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ৬ই সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলবে অনূর্ধ্ব ২০ দল। টুর্নামেন্টের জন্য ২৩ সদস্যের সদস্যের দল দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সেই দলে জায়গা পেয়েছেন ৫ জন প্রবাসী ফুটবলার। তারা হলেন- ইংল্যান্ড প্রবাসী উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস, জিদান ইউসুফ ও মোহাম্মদ মাহি খান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফারজাদ আফতাব ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এহসান মালিক। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য জানিয়ে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমাদের গ্রুপ বেশ শক্ত। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলা। শেষ ম্যাচে চেনা প্রতিপক্ষ ভারত। আশা করছি আসরে বাংলাদেশ মূলপর্বে উঠতে পারবে।’

২০২৭ সালের ২৪শে মার্চ থেকে ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বের লড়াই। যেখানে মোট ১৬টি দল অংশ নেবে। বাছাইপর্বের ৮ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে সেরা ৭ রানার্সআপ দল পাবে মূলপর্বের টিকিট। স্বাগতিক হিসেবে চীন সরাসরি অংশ নেবে। তাই মূল পর্বে জায়গা করে নিতে উজবেকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। মিশন শেষে ৮ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দল দেশে ফিরবে।