অবিশ্বাস্য ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখালেন সোনাল দিনুশা। কলম্বো টেস্টে ভারতের জয় কেড়ে নিলো লঙ্কানরা। টেল এন্ডারদের নিয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই করে শ্রীলঙ্কাকে ড্র’র আনন্দে ভাসান দিনুশা। পঞ্চম দিনে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল সফরকারী ভারতের। তবে শেষদিনে ৮১ ওভার ২ বল ঘুরিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি শুবমান গিলের দল। শ্রীলঙ্কার ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে দিনুশা। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ২৬৪ বলে ১৩৩ রানের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন এ বাঁহাতি ব্যাটার। দিনুশার প্রতিরোধের কাছে রীতিমতো আত্মসমপর্ণ করেন ভারতীয় বোলাররা। ম্যাচের দুই ইনিংসে বড় ফিফটি হাঁকান পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা (৮০ ও ৯২)। ফলো অনে পড়া শ্রীলঙ্কা চতুর্থ দিনে ১৬ রানের লিড নিতে হারায় ৬ উইকেট। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করেন দিনুশা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা কেশারা নুয়ান্থা।
সপ্তম উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে খেলেছেন ২৪৬ বল, নিয়েছেন ১১২ রান। ১৫০ বলে ৪৬ রানে নুয়ান্থা বিদায় নিলেও দিনুশা ছিলেন অবিচল। স্পিনার প্রবাথ জয়সুরিয়াকে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে খেলেছেন ৭১ বল। ২৮ বলে ২ রান করা জয়সুরিয়াকে ফিরিয়ে কিছুটা আশা দেখান রবিন্দ্র জাদেজা। লাভ হয়নি। আবারো লাহিরো কুমারাকে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের হতাশ করেন দিনুশা। নবম উইকেট জুটিতে খেলেন ১৭০ বল। এ জুটিতে আসে ৪৭ রান।
এর মধ্যে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন দিনুশা। এই সিরিজে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্টেই জোড়া সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়ে যান ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ফলো-অনে পড়া কোনো দলের হয়ে দুই ইনিংসেই তিন অঙ্ক স্পর্শ করা টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। ১৯৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েন ভারতের বিজয় হাজারে (১১৬ ও ১৪৫)। ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারারেতে ১৪১ ও ১৯৯* রানের
ইনিংস খেলেছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ৯০ বলে ১২ রান করা কুমারাকে ফিরিয়ে আবারো জয়ের স্বপ্ন দেখান জাদেজা। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে আসিথা ফার্নান্দোকে নিয়ে অসাধ্য সাধন করে ফেলেন দিনুশা। দুজনে মিলে ৫৬ বল অবিচ্ছিন্ন থাকার পর ২১৬ রানের লিড পায় শ্রীলঙ্কা। এরপর ইনিংস ঘোষণা করলে ব্যাট করতে না নেমে ১৭ ওভার আগে ড্র মেনে নেয় সফরকারী ভারত। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে ঘরে ফিরবে তারা।
