ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কে নতুন মোড়

ফন্ট সাইজ:

প্রায় এক মাসের টানাপোড়েনের পর বরফ গলতে শুরু করেছে ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কে। বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা আপাতত আর এগোবে না- ফিফার কাছ থেকে এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পর ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। মোনাকোয় উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সেখানে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ঘটনার শুরু প্রায় এক মাস আগে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্বকে ঘিরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির একটি পরিকল্পনা সামনে আনেন। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস’ নামের এই উদ্যোগ প্রকাশ্যে আসার পরই ফুটবল মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের আশঙ্কা ছিল, পরিকল্পনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত কাঠামোতেই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর অবস্থান নেয় উয়েফা। প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিল না হলে ইউরোপের দেশগুলোকে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের আহ্বান জানানোর হুমকি দেয় তারা। চাপের মুখে ইনফান্তিনো পরে জানান, প্রস্তাবটি আপাতত আর আলোচনায় নেই। পরিকল্পনাটি ঘিরে কিছু ‘ভুল’ হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু শুধু মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়নি উয়েফা।

ভবিষ্যতে একই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে না, এমন বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা চেয়েছিল তারা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই বয়কটের হুমকি প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়েছে। এতে আগামী মাসে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তাও কাটতে পারে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন ও স্বাগতিক পোল্যান্ড, এই ছয় ইউরোপীয় দলের টুর্নামেন্টে খেলার কথা রয়েছে। উয়েফার একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, বিষয়টিকে পিছু হটা হিসেবে দেখছে না সংস্থাটি। তরুণ ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে দূরে না রাখাও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। তবে ফিফার নেতৃত্ব ও পরিচালনব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে উয়েফা আগের অবস্থানেই আছে। নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা। বিরোধের কেন্দ্রে থাকা ইনফান্তিনোকে এরই মধ্যে সরাসরি পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন। এমনকি পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপরীতে প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে উয়েফা। ইনফান্তিনোকে নিয়ে ফুটবলবিশ্বে অবশ্য মতভেদ স্পষ্ট।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভেস্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লুসি ব্রোঞ্জ, ইমানুয়েল পেতিত ও ডেভিড জেমসের মতো সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা। অন্যদিকে ফিফা সভাপতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কয়েকজন সাবেক তারকা। ব্রাজিলের কাফু, ইতালির ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি, পর্তুগালের পেপে ও আর্জেন্টিনার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোর মতো সাবেক তারকারা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।