বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমেছে, টিকাদান কর্মসূচি সাফল্য অর্জন করেছে, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে।
দেশে এখন আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসা, হৃদরক্তনালির পরীক্ষা ও প্রসারণ, হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার, স্ট্রোক চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা এবং আরও বহু উন্নত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে।
কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়ে গেছে-সময়নির্ভর তীব্র ও জরুরি চিকিৎসাসেবার একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা।
জরুরি অবস্থায় শুধু কী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সমান গুরুত্বপূর্ণ হলো—রোগটি কত দ্রুত শনাক্ত হলো, কত দ্রুত সাহায্য চাওয়া হলো, কত দ্রুত প্রশিক্ষিত চিকিৎসাসেবা রোগীর কাছে পৌঁছাল, রোগী কত দ্রুত সঠিক হাসপাতালে পৌঁছালেন এবং সেখানে কত দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু হলো।
হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, মহাধমনির ছিঁড়ে যাওয়া বা স্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, বড় রক্তনালির আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মারাত্মক সংক্রমণ, বিষক্রিয়া, সাপের কামড়, প্রসূতির জটিলতা কিংবা তীব্র শ্বাসকষ্ট-এসব ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট মূল্যবান।
একজন রোগী আধুনিক হাসপাতাল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে থেকেও মারা যেতে পারেন, যদি সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না আসে, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা না হয়, ভুল হাসপাতালে নেওয়া হয় অথবা হাসপাতালে পৌঁছেও রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু হতে বিলম্ব হয়।
তাই আমাদের স্বাস্থ্যনীতি ও চিকিৎসা কাঠামোয় একটি মৌলিক ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে হবে—
জরুরি চিকিৎসা হাসপাতালের দরজায় শুরু হয় না; রোগী জীবনসংকটে পড়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়।
জরুরি চিকিৎসা মানে একটি সম্পূর্ণ জীবনরক্ষাকারী শৃঙ্খল
তীব্র ও জরুরি চিকিৎসাসেবা বলতে শুধু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বোঝালে চলবে না। এর মধ্যে রয়েছে-
রোগ শনাক্তকরণ → জরুরি নম্বরে যোগাযোগ → ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা → প্রশিক্ষিত অ্যাম্বুলেন্স → পথে চিকিৎসা → হাসপাতালকে আগাম বার্তা → দ্রুত রোগী বাছাই → পুনরুজ্জীবন → জরুরি পরীক্ষা → দ্রুত রোগ নির্ণয় → জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা → প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ বা জরুরি অস্ত্রোপচার → নিবিড় পরিচর্যা → নিরাপদ স্থানান্তর → পুনর্বাসন।
এই শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একটি ধাপ ব্যর্থ হলে পরবর্তী ধাপের আধুনিকতম চিকিৎসাও অনেক সময় রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে না।
কেন এখনই জাতীয় কর্মসূচি প্রয়োজন
বাংলাদেশে রোগের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের বোঝা বাড়ছে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা, শিল্প দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, ভবনধস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিষক্রিয়া ও বিভিন্ন ধরনের তীব্র অসুস্থতা প্রতিদিন মানুষকে জরুরি চিকিৎসার মুখোমুখি করছে।
এসব ক্ষেত্রে শুধু মৃত্যু নয়, প্রতিরোধযোগ্য অক্ষমতাও একটি বড় জাতীয় সমস্যা।
স্ট্রোকের রোগী দেরিতে চিকিৎসা পেলে বেঁচে গেলেও সারাজীবনের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারেন।
হার্ট অ্যাটাকের রোগীর বন্ধ করোনারি রক্তনালি দ্রুত খুলতে না পারলে হৃদপেশির বড় অংশ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
দুর্ঘটনার রোগীর রক্তক্ষরণ দ্রুত বন্ধ করা না গেলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হতে পারে।
একইভাবে মহাধমনি বা বড় রক্তনালির কিছু জরুরি অবস্থায় দ্রুত অস্ত্রোপচার বা বিশেষ হস্তক্ষেপ না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর অবস্থা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ একটি শক্তিশালী তীব্র ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা শুধু মৃত্যু কমায় না; এটি অক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাব্যয়, পরিবারের আর্থিক বিপর্যয় এবং দেশের উৎপাদনশীল জনশক্তির ক্ষতিও কমায়। সুতরাং জরুরি চিকিৎসায় বিনিয়োগকে স্বাস্থ্যখাতের সাধারণ ব্যয় হিসেবে নয়, জাতীয় মানবসম্পদ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
জরুরি হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির অস্ত্রোপচার কেন অপরিহার্য
জাতীয় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে হবে জরুরি হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা।
সব হৃদ্রোগের জরুরি চিকিৎসা রক্তনালির প্রসারণ বা ওষুধের মাধ্যমে শেষ হয় না। আবার সব রক্তনালির সমস্যাও শুধু ওষুধে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
কিছু রোগীর জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারই একমাত্র কার্যকর উপায় হতে পারে।
যেসব অবস্থায় জরুরি হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার লাগতে পারে
এর মধ্যে রয়েছে-
* মহাধমনির আকস্মিক স্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া
* হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদ্যন্ত্রের দেয়াল ছিঁড়ে যাওয়া
* হৃদ্যন্ত্রের দুই প্রকোষ্ঠের মধ্যবর্তী দেয়াল ছিঁড়ে যাওয়া
* হার্ট অ্যাটাকের পর তীব্র ভালভজনিত জটিলতা
* হৃদ্যন্ত্রে গুরুতর আঘাত
* হৃদ্যন্ত্রে রক্ত জমে চাপ সৃষ্টি হওয়া
* নির্বাচিত ক্ষেত্রে জটিল করোনারি রক্তনালির সমস্যা
* হৃদ্যন্ত্রের ভালভে গুরুতর সংক্রমণজনিত জটিলতা
* কৃত্রিম বা স্বাভাবিক ভালভের প্রাণঘাতী ত্রুটি।
এ ধরনের রোগীকে যদি এমন হাসপাতালে নেওয়া হয় যেখানে শুধু জরুরি বিভাগ বা হৃদ্রক্তনালির প্রসারণের ব্যবস্থা আছে কিন্তু জরুরি হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের সুযোগ নেই, তবে মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে।
তাই উন্নত জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থায় হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদ্রক্তনালি বিশেষজ্ঞ এবং হৃদ্যন্ত্রের শল্যচিকিৎসকের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় থাকতে হবে।
জরুরি রক্তনালির অস্ত্রোপচার
একইভাবে কিছু রক্তনালির জরুরি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে অঙ্গহানি বা মৃত্যু হতে পারে।
যেমন-
* হাত বা পায়ের রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া
* মহাধমনির স্ফীতি ফেটে যাওয়া
* বড় রক্তনালিতে আঘাত
* তীব্র ও নিয়ন্ত্রণহীন রক্তক্ষরণ
* রক্তনালি বন্ধ হয়ে অঙ্গের জীবন হুমকির মুখে পড়া
* নির্বাচিত ক্ষেত্রে রক্তনালির সংক্রমণ
* অস্ত্রোপচার-পরবর্তী গুরুতর রক্তনালি জটিলতা।
এখানে মূলনীতি হওয়া উচিত-
প্রথমে জীবন রক্ষা, তারপর অঙ্গ রক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মিলিত জরুরি চিকিৎসার নতুন ধারা
আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রোপচার অথবা শুধু রক্তনালিভিত্তিক হস্তক্ষেপ যথেষ্ট নয়।
কখনো প্রয়োজন হয়-
রক্তনালিভিত্তিক হস্তক্ষেপ + অস্ত্রোপচার + নিবিড় পরিচর্যা
এই তিনটির সমন্বয়।
তাই নির্বাচিত জাতীয় ও আঞ্চলিক কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে এমন অপারেশন কক্ষ গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে একই স্থানে আধুনিক চিত্রায়ন, রক্তনালিভিত্তিক চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার করা সম্ভব।
এ ধরনের কেন্দ্রের সঙ্গে হৃদ্রোগ, হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার, রক্তনালির অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেসিয়া, নিবিড় পরিচর্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিত্রনির্ভর চিকিৎসা বিভাগের সমন্বয় থাকতে হবে।
সরকারের জন্য প্রস্তাবিত ২০ দফা জাতীয় কর্মপরিকল্পনা
১. জাতীয় তীব্র ও জরুরি চিকিৎসানীতি প্রণয়ন
দেশের জন্য একটি স্বতন্ত্র জাতীয় তীব্র ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
এর আওতায় জরুরি চিকিৎসা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ট্রমা, মারাত্মক সংক্রমণ, বিষক্রিয়া, প্রসূতি ও শিশু জরুরি চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা, জরুরি হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার, জরুরি রক্তনালির অস্ত্রোপচার, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, রোগী স্থানান্তর এবং পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১. একীভূত জাতীয় জরুরি চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা
একটি কেন্দ্রীয় জরুরি নম্বরের মাধ্যমে নিকটতম উপযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী হাসপাতাল নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে আগাম তথ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
অ্যাম্বুলেন্সকে শুধু রোগী বহনের গাড়ি হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি হতে হবে চলমান প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র।
প্রয়োজন অনুযায়ী এতে অক্সিজেন, হৃদ্যন্ত্র পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র, শ্বাসনালি ব্যবস্থাপনার সরঞ্জাম, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং প্রশিক্ষিত জরুরি চিকিৎসাকর্মী থাকতে হবে।
১. প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টার কার্যকর জরুরি বিভাগ
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করতে হবে-
* রোগীর অগ্রাধিকারভিত্তিক বাছাই
* প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স
* পুনরুজ্জীবন কক্ষ
* নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন
* হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক পরীক্ষা
* বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র
* জরুরি ওষুধ
* প্রাথমিক শ্বাসনালি ব্যবস্থাপনা
* জরুরি পরীক্ষা
* দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ
* দ্রুত রোগী প্রেরণের ব্যবস্থা।
১. প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সংকটকালীন চিকিৎসাকেন্দ্র
প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে থাকতে হবে-
* নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র
* হৃদ্রোগ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র
* উচ্চ পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা কেন্দ্র
* স্ট্রোক ইউনিট
* ট্রমা সেবা
* জরুরি অপারেশন থিয়েটার
* নিরাপদ রক্ত সরবরাহ
* সিটি স্ক্যান
* উন্নত পরীক্ষাগার
* সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ।
১. জাতীয় হার্ট অ্যাটাক চিকিৎসা নেটওয়ার্ক
হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় সময়ই হৃদ্পেশি।
সন্দেহভাজন রোগীর দ্রুত হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক পরীক্ষা করতে হবে। উপজেলা ও জেলা হাসপাতাল থেকে এই পরীক্ষার ফল ডিজিটাল মাধ্যমে নির্ধারিত হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ বা সক্ষম কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
দেশকে অঞ্চলভিত্তিক কেন্দ্রীয় ও সহযোগী হাসপাতালের নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে হবে।
যেসব কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক প্রাথমিক করোনারি রক্তনালি প্রসারণ সম্ভব, তাদের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের সরাসরি যোগাযোগ থাকতে হবে।
যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্তনালি প্রসারণ সম্ভব নয়, সেখানে উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে নির্দেশিকা অনুযায়ী রক্তজমাট গলানোর চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সক্ষম কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
লক্ষ্য হবে-বন্ধ করোনারি রক্তনালি যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়া।
১. জাতীয় স্ট্রোক নেটওয়ার্ক
স্ট্রোকেও সময় মানে মস্তিষ্ক।
প্রতিটি জেলা হাসপাতালে দ্রুত স্ট্রোক শনাক্তকরণ, জরুরি মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিভাগীয় ও নির্বাচিত আঞ্চলিক কেন্দ্রে উন্নত স্ট্রোক চিকিৎসা, রক্তজমাট গলানোর চিকিৎসা এবং উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে যন্ত্রের মাধ্যমে রক্তজমাট অপসারণের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
১. জাতীয় ট্রমা ব্যবস্থা
দেশে অঞ্চলভিত্তিক ট্রমা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।
গুরুতর আহত রোগীকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হবে, তা ঘটনাস্থলেই নির্ধারণের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
প্রয়োজনে রোগীকে নিকটতম ছোট হাসপাতালে না নিয়ে সরাসরি সক্ষম ট্রমা কেন্দ্রে নেওয়ার সুস্পষ্ট নীতি থাকতে হবে।
১. জাতীয় জরুরি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি অস্ত্রোপচার নেটওয়ার্ক
জাতীয় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি স্বতন্ত্র অংশ হিসেবে জরুরি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নির্বাচিত জাতীয়, বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকতে হবে-
* হৃদ্যন্ত্রের শল্যচিকিৎসক
* রক্তনালির শল্যচিকিৎসক
* হৃদ্অ্যানেসথেসিয়া দল
* হৃদ্রক্তনালি বিশেষজ্ঞ
* রক্ত সঞ্চালন যন্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষিত কর্মী
* জরুরি অপারেশন থিয়েটার
* হৃদ্রক্তনালি পরীক্ষাগার
* নিবিড় পরিচর্যা ও হৃদ্রোগ নিবিড় পরিচর্যা
* রক্ত ও রক্তজাত উপাদান
* উন্নত চিত্রায়ন ব্যবস্থা
* দ্রুত রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা।
বিশেষ করে মহাধমনির আকস্মিক রোগ, হার্ট অ্যাটাকের পর যান্ত্রিক জটিলতা, হাত-পায়ের রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, মহাধমনির স্ফীতি ফেটে যাওয়া এবং বড় রক্তনালির আঘাতের জন্য সুস্পষ্ট দ্রুত প্রেরণ প্রটোকল থাকতে হবে।
১. দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ জরুরি পরিবহন
চর, হাওর, দ্বীপ, পার্বত্য ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স এবং বাস্তবতা অনুযায়ী বিশেষ দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নির্বাচিত ক্ষেত্রে দ্রুত আকাশপথে রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
১. জাতীয় দূরবর্তী জরুরি চিকিৎসা নেটওয়ার্ক
উপজেলা ও জেলা হাসপাতালকে বিভাগীয় ও জাতীয় বিশেষায়িত হাসপাতালের সঙ্গে নিরাপদ ডিজিটাল যোগাযোগে যুক্ত করতে হবে।
হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক পরীক্ষা, সিটি স্ক্যান, রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক তথ্য এবং পরীক্ষার ফল দ্রুত বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকলে রোগী স্থানান্তরের আগেই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
১. জাতীয় ডিজিটাল রোগী প্রেরণ ও শয্যা ব্যবস্থাপনা
একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে-
কোথায় নিবিড় পরিচর্যা শয্যা খালি, কোথায় হৃদ্রোগ নিবিড় পরিচর্যার শয্যা আছে, কোথায় হৃদ্রক্তনালি চিকিৎসার ব্যবস্থা চালু, কোথায় স্ট্রোক চিকিৎসা হচ্ছে, কোথায় জরুরি অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত এবং কোথায় হৃদ্যন্ত্র বা রক্তনালির অস্ত্রোপচার দল পাওয়া যাচ্ছে।
এতে রোগীকে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হবে না।
১. দক্ষ জরুরি চিকিৎসা জনবল বৃদ্ধি
অবকাঠামো দিয়ে হাসপাতাল তৈরি করা যায়; দক্ষ জনবল ছাড়া জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা তৈরি করা যায় না।
জরুরি চিকিৎসাবিদ, নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ, হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদ্রক্তনালি বিশেষজ্ঞ, হৃদ্যন্ত্রের শল্যচিকিৎসক, রক্তনালির শল্যচিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, ট্রমা চিকিৎসক, শ্বাস-প্রশ্বাস চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যায় দক্ষ নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোতে এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণের আসন বাড়ানো জরুরি।
১. বাধ্যতামূলক জীবনরক্ষাকারী প্রশিক্ষণ
চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রাথমিক ও উন্নত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এবং ট্রমা ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে হাসপাতাল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বড় বিপণিবিতান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র স্থাপন এবং সাধারণ মানুষকে এর ব্যবহার শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
১. জাতীয় জরুরি রোগ নিবন্ধনব্যবস্থা
হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হঠাৎ হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, ট্রমা, মারাত্মক সংক্রমণ, বিষক্রিয়া, সাপের কামড়, জরুরি হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার এবং জরুরি রক্তনালির অস্ত্রোপচারের জন্য পৃথক তথ্যভান্ডার তৈরি করতে হবে।
এই তথ্যের মাধ্যমে জানা যাবে কোথায় কত রোগী হচ্ছে, কত মৃত্যু হচ্ছে, চিকিৎসা পেতে কত সময় লাগছে এবং কোন অঞ্চলে ব্যবস্থার ঘাটতি বেশি।
১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার
হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ, স্ট্রোকের চিত্র দ্রুত পর্যালোচনা, রোগীর অবনতির আগাম সতর্কতা, নিবিড় পরিচর্যার রোগী পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত রোগী বাছাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের হাতে।
একই সঙ্গে রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির মান নিশ্চিত করতে হবে।
১. জাতীয় জরুরি চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় কেন্দ্র
সারাদেশের অ্যাম্বুলেন্স, নিবিড় পরিচর্যা শয্যা, হৃদ্রোগ নিবিড় পরিচর্যা, স্ট্রোক কেন্দ্র, ট্রমা কেন্দ্র, হৃদ্রক্তনালি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং জরুরি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির অস্ত্রোপচার কেন্দ্রকে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বড় দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগের সময় এই কেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক চিকিৎসাসম্পদ দ্রুত সমন্বয় করবে।
১. সময়ভিত্তিক মানসূচক ও জবাবদিহি
জরুরি চিকিৎসার সাফল্য শুধু কত রোগী চিকিৎসা পেলেন তা দিয়ে নয়, কত দ্রুত চিকিৎসা পেলেন—তা দিয়েও মূল্যায়ন করতে হবে।
পরিমাপ করতে হবে—
* অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে কত সময় লাগল
* হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক পরীক্ষা করতে কত সময় লাগল
* রোগী স্থানান্তরে কত সময় লাগল
* বন্ধ হৃদ্রক্তনালি খুলতে কত সময় লাগল
* স্ট্রোক রোগীর মস্তিষ্কের চিত্রায়ন কত দ্রুত হলো
* জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত থেকে অস্ত্রোপচার শুরু পর্যন্ত কত সময় লাগল।
এ ধরনের মানসূচক নিয়মিত প্রকাশ করলে স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি ও মানোন্নয়ন দুটোই বাড়বে।
১. সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বিত নেটওয়ার্ক
জরুরি অবস্থায় রোগীর প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত—তিনি একজন জীবনসংকটাপন্ন মানুষ। তিনি সরকারি না বেসরকারি হাসপাতালের রোগী—এটি প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি সক্ষমতাকে একটি সমন্বিত জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ট্রমা, নিবিড় পরিচর্যা এবং জরুরি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির অস্ত্রোপচারে এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. গবেষণা, উদ্ভাবন ও জনসচেতনতা
বাংলাদেশের নিজস্ব জরুরি চিকিৎসা তথ্যভান্ডার, গবেষণা, দেশীয় প্রযুক্তি এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি গড়ে তুলতে হবে।
বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবহনকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ও হৃদ্যন্ত্র পুনরুজ্জীবনের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
জনগণকে শেখাতে হবে-
হার্ট অ্যাটাক কীভাবে চিনবেন, স্ট্রোকের লক্ষণ কী, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কী করবেন এবং কখন জরুরি সাহায্য চাইবেন।
১. স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
একটি জাতীয় তীব্র ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে অ্যাম্বুলেন্স, জনবল, নিবিড় পরিচর্যা, হৃদ্রোগ নিবিড় পরিচর্যা, হৃদ্রক্তনালি চিকিৎসাকেন্দ্র, স্ট্রোক কেন্দ্র, ট্রমা কেন্দ্র, জরুরি অপারেশন থিয়েটার, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির অস্ত্রোপচার, রক্তব্যাংক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং পুনর্বাসন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
এটি ব্যয় নয়।
এটি মানুষের জীবন, দেশের মানবসম্পদ এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতা রক্ষার বিনিয়োগ।
ঢাকা নয়-জীবন বাঁচানোর সুযোগ পৌঁছাতে হবে পুরো বাংলাদেশে
বাংলাদেশের একজন নাগরিক কোথায় বসবাস করেন, সেটি তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে পারে না।
]একজন মানুষ ঢাকায় হার্ট অ্যাটাক করলে যে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখেন, কুড়িগ্রাম, ভোলা, সুনামগঞ্জ, বান্দরবান কিংবা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের একজন মানুষেরও সেই অধিকার রয়েছে।
তাই একটি স্তরভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে-
উপজেলা → জেলা → আঞ্চলিক/বিভাগীয় সংকটকালীন চিকিৎসাকেন্দ্র → জাতীয় বিশেষায়িত কেন্দ্র।
সব কেন্দ্রকে যুক্ত করবে-
অ্যাম্বুলেন্স + দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ + ডিজিটাল রেফারেল + নিবিড় পরিচর্যা নেটওয়ার্ক + হৃদ্রক্তনালি চিকিৎসা নেটওয়ার্ক + স্ট্রোক নেটওয়ার্ক + ট্রমা নেটওয়ার্ক + জরুরি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি অস্ত্রোপচার নেটওয়ার্ক।
শেষ কথা: একটি রোগীর জীবনই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ
স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে আলোচনায় আমরা প্রায়ই হাসপাতালের সংখ্যা, শয্যার সংখ্যা, যন্ত্রপাতি বা বাজেটের অঙ্ক নিয়ে কথা বলি। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছেন একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি ভবিষ্যৎ।
হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত একজন বাবা যদি সময়মতো চিকিৎসা পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন, একটি পরিবার তার অভিভাবককে ফিরে পায়।
স্ট্রোকের একজন মা যদি দ্রুত চিকিৎসায় পক্ষাঘাত থেকে রক্ষা পান, একটি পরিবার তার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়।
দুর্ঘটনায় আহত একজন তরুণের রক্তক্ষরণ দ্রুত বন্ধ করে জীবন বাঁচানো গেলে রাষ্ট্র একজন কর্মক্ষম নাগরিককে ফিরে পায়।
মহাধমনির মারাত্মক জটিলতা বা অন্য কোনো প্রাণঘাতী হৃদ্যন্ত্র বা রক্তনালির জরুরি অবস্থায় রোগী যদি সময়মতো অস্ত্রোপচার পান, তখন একটি সুসংগঠিত স্বাস্থ্যব্যবস্থাই জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আর প্রসূতি জটিলতায় একজন মায়ের জীবন রক্ষা মানে শুধু একজন মানুষকে বাঁচানো নয়-একটি শিশুর ভবিষ্যৎকেও রক্ষা করা। তাই জরুরি চিকিৎসাসেবাকে আমরা আর হাসপাতালের একটি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারি না। এটি হতে হবে রাষ্ট্রের একটি সমন্বিত জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রের অঙ্গীকার হওয়া উচিত-
“আমি যেখানেই থাকি, হঠাৎ জীবনসংকটে পড়লে একটি কার্যকর জাতীয় ব্যবস্থা আমাকে দ্রুত সঠিক চিকিৎসার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবে।”
আমাদের জাতীয় লক্ষ্য হোক-
সঠিক রোগী- সঠিক সময়ে - সঠিক চিকিৎসা- সঠিক স্থানে।
হার্ট অ্যাটাকে-সময়ই হৃদ্পেশি। স্ট্রোকে-সময়ই মস্তিষ্ক। ট্রমায়-সময়ই রক্ত। জরুরি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সংকটে—সময়ই জীবন।
আজ পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নিলে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, অঞ্চলভিত্তিক ও সমন্বিত তীব্র ও জরুরি চিকিৎসা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
এর মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও অক্ষমতা কমবে, পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয় কমবে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে। জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়। এটি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক অঙ্গীকার।
একটি আধুনিক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশের জন্য এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ খুব কমই হতে পারে ।
লেখক: অধ্যাপক, এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (কার্ডিওলজি), ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, বিভাগীয় প্রধান, হৃদরোগ বিভাগ, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
