সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হতে আসিনি: বিরোধী দলের নেতা

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হতে আসিনি: বিরোধী দলের নেতা

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হওয়ার জন্য আসিনি। উনি শিক্ষক হতে চাইলে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। যার ইচ্ছা সেখানে ভর্তি হতে পারেন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনে বিরোধী দলের নেতা এসব কথা বলেন। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে সবাইকে কথা বলেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এমনকি তিনি সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে তিনি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। ঠিক, আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ, গিয়ে ভর্তি হবে, উনার লেকচার শুনবে।

এসময় সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? মাননীয় স্পিকার, আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন। আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে, এইটা কোনো কালচার না, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। ঠিক, এটা হওয়া উচিত না।

পল্টনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, উনি এই পল্টন আজকে নতুন করে বলেন নাই । আজকে আমি সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের এই কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এইটুকু করে আমরা বসবো। না হলে এখানে বসা-অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার কোনো প্রশ্নই উঠে না।

এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে গান বাজনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটা কালচারাল জেলা। সেই জেলায় নাকি গান-বাজনা, সিনেমা নাকি বন্ধের মতোই। এই ছয় মাসে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি ল’ অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কি না? এবং আইনের শাসন, সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে উনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না? নাকি উনি ব্যর্থ হয়েছেন?

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন বুঝতে পারেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “স্পিকার এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছে কি না, এটা একটা প্রশ্ন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নাই, সেটা আরেকটা প্রশ্ন। কত হত্যা হয়েছে, জখম হয়েছে ইত্যাদি যে ডাটা দিলেন, সেই ডাটাটা কিসের ভিত্তিতে দিলেন, কী পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিলেন, সে স্ট্যাটিস্টিক্সটা কি আমি জানি না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।