অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যৌন মিলনের সময় শ্বাসরোধ হয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গত রোববার সিডনির নর্দার্ন বিচেসের এলানোরা হাইটসের একটি বাড়িতে অজ্ঞান অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে তাকে রয়্যাল নর্থ শোর হাসপাতালে নেয়া হলে মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ খবর প্রকাশ করেছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই কিশোরীর মৃত্যুর কারণ বা তার শরীরে আঘাতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশের একাধিক সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, যৌন সম্পর্কের সময় শ্বাসরোধের কারণে জ্ঞান হারিয়েছিলেন ওই কিশোরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যৌন সম্পর্কের সময় শ্বাসরোধ বা ‘সেক্সুয়াল স্ট্র্যাংগুলেশন’-এর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর ফলে মাথাব্যথা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং বিরল ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাচ্ছে।
যৌন সম্মতি বিষয়ক অধিকারকর্মী শ্যানেল কন্টোস এই মৃত্যুকে ‘প্রতিরোধযোগ্য’ বলেন। একই সঙ্গে তিনি এর জন্য পর্নোগ্রাফি কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, মূলধারার পর্নোগ্রাফিতে নারীদের ওপর সহিংসতা ও শ্বাসরোধের মতো বিষয়গুলো নিয়মিত দেখানো হয় এবং উপস্থাপন করা হয় যেন নারীরা এটি উপভোগ করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যৌন সম্পর্কের সময় শ্বাসরোধ করার কোনো ‘নিরাপদ’ উপায় নেই। সম্প্রতি মেলবোর্ন ও কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (২০২৪) এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের অর্ধেকেরও বেশি (৫৭ ভাগ) অন্তত একবার যৌন মিলনের সময় শ্বাসরোধের অভিজ্ঞতা পার করেছেন। ৪ হাজার ৭০০ জনের ওপর চালানো ওই জরিপে আরও দেখা যায়, এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ১৯ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই অভিজ্ঞতার শিকার হন।
