মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে এক কলেজছাত্রীর ডান হাত কুপিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে সায়ন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ওই এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার সকাল ৭ টার সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সায়নকে আটক করে। তবে পুলিশ বলছে—কলেজছাত্রী ও সায়ন সম্পর্কে ‘স্বামী-স্ত্রী’।
অভিযুক্ত সায়ন শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি হুমাউন কবীর।
মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওই ছাত্রীর বাবা ও মাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতরা হলেন—কলেজছাত্রীর বাবার লর্ড মার্কেট এলাকার ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার। হামলায় স্মৃতি আক্তারের ডান হাত কবজির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেলিম হোসেনের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে কুপিয়ে তার ডান হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্মৃতির চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার বাবা-মা ছুটে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় সেলিম হোসেন ও তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত সায়ন।
আহতদের চিৎকার ও হামলার ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তিনজনকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। বুধবার সকাল সাতটার দিকে সায়নকে আটক করা হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ওই কলেজছাত্রী সায়নের স্ত্রী বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।’
