রাশিয়ায় গোপন সফরে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ

রাশিয়ায় গোপন সফরে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ রাশিয়ার মস্কোতে গোপন সফরে গিয়ে বৈঠক করছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে। র‌্যাটক্লিফের সফরের খবর এমন সময় সামনে এলো, যখন মস্কোর একটি বিমানবন্দরে মার্কিন বিমানবাহিনীর বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ পরিবহন বিমান এবং একটি মার্কিন কূটনৈতিক গাড়িবহর দেখা গেছে। তবে রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো সরকারই সেখানে থাকা মার্কিন কর্মকর্তার পরিচয় কিংবা সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্তব্য করেনি।

সিআইএও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে মার্কিন একটি পরিবহন বিমানের মস্কোতে অবতরণের খবর প্রকাশ হয়। সে বিষয়ে কোনো সরকারই কোনো মন্তব্য করেনি। সিআইএ পরিচালক হিসেবে র‌্যাটক্লিফের এটি রাশিয়ায় প্রথম প্রকাশ্যে জানা সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি এর আগে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। র‌্যাটক্লিফের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে জানিয়েছিল যে, একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করবে। এ কারণে প্রতিনিধিদলের সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর হামলা স্থগিত রাখার জন্য কিয়েভকে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঝুঁকি নেয়ার হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ অনুমোদনের ব্যাপারে তিনি ক্রমেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে থাকতে পারে হাইব্রিড অভিযান এবং প্রচলিত সামরিক সংঘাতের নিচের স্তরে থাকা এমন বিভিন্ন পদক্ষেপ, যার দায় সরাসরি প্রমাণ করা কঠিন। এর মাধ্যমে পুতিন ন্যাটো জোট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে চাইতে পারেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বন্দিবিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সিআইএ। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন-রুশ দ্বৈত নাগরিক কেসনিয়া কারেলিনার মুক্তি। তার মুক্তির বিষয়ে র‌্যাটক্লিফ ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছিলেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের বন্দিবিনিময়েও সিআইএ যুক্ত ছিল।

ওই বিনিময়ের মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গারশকোভিচ এবং সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান মুক্তি পান। এর আগে সাবেক সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস ২০২১ সালের নভেম্বরে মস্কো সফর করেন। সে সময় তিনি রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সরাসরি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ইউক্রেনে হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেন।