ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বিকাল ৩টায় শুরু হবে অধিবেশন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশন পরিচালনা করবেন। স্পিকারকে সহায়তা করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে গত ৭ই জুন শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে ১৫ই জুলাই। ওই অধিবেশনে বাজেট ও ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে। ৪২ দিন বিরতি দিয়ে ফের শুরু হচ্ছে অধিবেশন। সংসদ সূত্র জানিয়েছে, অধিবেশন কতদিন চলবে তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় অধিবেশনের কার্যকাল নির্ধারিত হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এই অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হবে। অধিবেশন ৭-৮ দিন চলতে পারে। তবে কার্যপ্রণালির ওপর ভিত্তি করে সময় নির্ধারিত হবে। এদিকে অধিবেশনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীদের সংসদীয় দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্ত্রীদের সংসদীয় দায়িত্ব বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী
এদিকে সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। গত ২৪শে আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদে নির্ধারিত মন্ত্রীরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে কারা দায়িত্ব পালন করবেন তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংসদীয় কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর (এজেডএম) মো. জাহিদ হোসেন এবং শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অন্যান্য মন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন ড. আব্দুল মঈন খান। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আফরোজা খানম। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আন্দালিব রহমান। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন সাচিং প্রু। তার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রজ্ঞাপনগুলোর অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। গত ২১শে আগস্ট মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে ছয়জন শপথ নেন। শপথের পর তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন এবং পুরনো একজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। ড. আবদুল মঈন খান পেয়েছেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সবমায় মন্ত্রণালয়।
এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেয়ছেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সাচিং প্রু পেয়েছেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন- তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়। আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অফরোজা খানমকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শামীম কায়সার লিংকন পেয়ছেন- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ সাতজনের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের কারণে সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার।
যেসব সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন
ত্রয়োদশ সংসদে এখন পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক ৬টি ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ৯টি মিলিয়ে ১৫টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত ৯টি স্থায়ী কমিটি হলো- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, পানিসম্পদ, শিল্প, পরিকল্পনা, অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত। সবক’টি কমিটির সভাপতি হয়েছেন সরকারি দল বা মিত্রদের মধ্য থেকে। এখন পর্যন্ত গঠিত বিষয়ভিত্তিক ছয়টি কমিটির মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বাকি পাঁচটি কমিটি হলো- কার্য উপদেষ্টা কমিটি, বিশেষ অধিকার, সংসদ কমিটি, লাইব্রেরি কমিটি ও বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটিতে এখনো নাম দেয়নি বিরোধী দল
গত ১৩ই জুলাই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দল এখনো কারও নাম দেয়নি। তারা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের ধারণাগত মতভিন্নতা আছে। বিরোধী দল প্রতিনিধি না দিলেও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সরকারি দল বলেছে, বিরোধী দলের প্রতিনিধি দেয়ার সুযোগ উন্মুক্ত আছে। তারা যখন নাম দেবে, তখনই তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংসদ এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
এদিকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় সবধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একইসঙ্গে ওই এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ক্ষতিকর দ্রব্য বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামীকাল বুধবার রাত ১২টা থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ থাকবে। একই সময় থেকে যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া এলাকা
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন এলাকার মধ্যে আছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা। এ ছাড়া বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এবং পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এলাকাও এর আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমণ্ডি-১৬ (পুরনো-২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরনো নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং এবং ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
