একরাম হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ৭ আসামির আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিরা হলো- সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, গত ২৬শে জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। একইসঙ্গে ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট এবং ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। তাদের বিষয়ে নন-এঙিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করা হয়েছে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল হাজির ৪ আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে পলাতক ৭ আসামির আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদনও মঞ্জুর করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর।

‘ক্রসফায়ার’কে মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ: প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৮ সালের ২৬শে মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে তুলে নেয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। একরামুল হক ছিলেন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। মামলায় অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, একরাম হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি তৎকালীন সময়ে দেশে সংঘটিত ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ হত্যাকাণ্ডের অংশ। তার দাবি, একই প্যাটার্নে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ক্রসফায়ার’, গুম ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং একরাম হত্যাকাণ্ডও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করে তিনি মত দিয়েছেন যে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই বিচারযোগ্য এবং এখানে এর বিচার হওয়া উচিত। আসামিপক্ষ মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নয়, স্থানীয় আদালতে বিচার হওয়া উচিত এমন আবেদন করেছে। এ আবেদনের বিরোধিতা করেছে প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলাটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে পড়ার বিষয়ে তারা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তবে বিচারের কোনো পর্যায়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অন্য আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই সাভারে আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করে একপর্যায়ে টেনে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৩ জনকে হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। কারাগারে পাঠানো ৬ জন হলো- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।