শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শেষ হবে ১১ দলের লংমার্চ

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৭টায় আমরা ঐতিহাসিক বহু আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শাপলা চত্বরে সমবেত হয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রামের আরেক সব আন্দোলনের সূতিকাগার লালদীঘির ঐতিহাসিক ময়দানে আমরা গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো। এই লংমার্চে অন্তত ছয়-সাতটি পয়েন্টে আমাদের নেতৃবৃন্দ পথসভা করবেন। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেইসব পথসভা সফল করবেন। মঙ্গলবার (২৫শে আগস্ট) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পথে পথে মহাসড়কের দুই পাশের জেলা, থানা, উপজেলা, গ্রাম, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জনগণের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করা হচ্ছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়টি জেলা ও মহানগর শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক চলছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা সংশ্লিষ্ট নয়টি শাখাকে এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব শাখার আমীর ও নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সকাল ১০টা থেকে লংমার্চ প্রস্তুতির বৈঠক করছেন। তিনি বলেন, এই অভিযানের অন্তত ছয়-সাতটি পয়েন্টে আমাদের নেতৃবৃন্দ পথসভা করবেন। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেইসব পথসভা সফল করবেন।

লংমার্চের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন বিভাগ গঠন করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আমরা এই রোডমার্চের ডিসিপ্লিন সম্পর্কে অনেকগুলো বিভাগ করেছি। অভ্যর্থনা বিভাগ করেছি, মেডিকেল বিভাগ করেছি, পরিবহন বিভাগ করেছি। আমরা প্রচার-প্রকাশনা, আইটি বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ, সাংস্কৃতিক বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ, প্রশাসনিক যোগাযোগের বিভাগ, চিকিৎসা বিভাগ এবং পরিবহন বিভাগের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছি।
তার ভাষ্য, লংমার্চ সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে লালদীঘিতে শেষ হবে।

এ দীর্ঘ সময়ে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত গাইডলাইন দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-সিলেট রুটের কর্মসূচি নিয়ে পুলিশকে লিখিতভাবে শিডিউল দেয়া হয়েছে। সিলেটের রুটে ট্রেনে কর্মসূচি হবে বলেও জানান তিনি। খুলনার রুট কুষ্টিয়া পর্যন্ত যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোথায় কোথায় আমাদের স্পট হবে, কোথায় কোথায় জনসভা হবে, সেসব বিষয়ে আমরা অবগত করেছি এবং উনাদেরকে আমরা অনুরোধ করেছি সংশ্লিষ্ট সমস্ত রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, তারপরে থানাগুলোর যারা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকবেন, তাদের ট্রাফিক সিস্টেম, পুলিশের সঙ্গে রিলেটেড ইন্টেলিজেন্স সবাইকে যেন উনারা উনাদের দায়িত্বে এই সবগুলো অবহিত করেন এবং আমাদের এই লংমার্চ সফল করতে তারা যেন সহযোগিতা করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করার কথা জানিয়ে তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে লংমার্চ সফল করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বৈধ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক পথের মধ্যে লংমার্চ একটি কর্মসূচি। এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে এবং কোনো ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থাকবে না।
বিএনপি, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরাও একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই নিয়মতান্ত্রিক জনগণের দুর্ভোগ, গণদাবি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, এগুলো সবই মানুষের গণ-আকাঙ্ক্ষা। এই পূরণের দাবিতে আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ১১ দলের বাইরে যারা আছেন, তাদেরকেও আমরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা কামনা করি, তাদের দোয়া কামনা করি।

লং মার্চে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাবল রোড থাকায় একটি রোড দিয়ে লংমার্চ পরিচালনা করে অন্য রোডটি সাধারণ যানবাহনের জন্য ফাঁকা রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে হাজার হাজার গাড়ির বহর চলাচলের কারণে কোথাও কোথাও যাত্রাবিরতি ও পথসভায় সাময়িক যানজট হতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। দেশ-জাতি-গণতন্ত্রের সঙ্গে যাদের একটু কষ্ট হবে, একটু যানজট হবে, একটু ভোগান্তি যদি হয়, আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের সবার কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলের ঐক্যের সবচেয়ে বৃহৎ একটি রাজনৈতিক প্রথম কর্মসূচি লংমার্চ। এসময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।