৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নেই, পদ পূরণে ৩ মাসের পরিকল্পনা

৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নেই, পদ পূরণে ৩ মাসের পরিকল্পনা

ফন্ট সাইজ:

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ। মামলা জটিলতার কারণে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না এসব পদে। সম্প্রতি দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। এবার পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে পদোন্নতি দেয়া হবে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের পর তা যাচাই বাছাই করা হবে। তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা জানানোর জন্য ৩০ কর্মদিবস সময় দেয়া হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তি শেষে তালিকা ডিপিই’তে পাঠানো হবে।

এরপর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) যাবে তালিকা। পিএসসি’র অনুমোদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হবে। বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্ধারিত যোগ্যতা থাকতে হবে। ফলে বর্তমানে শূন্য থাকা ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদের বড় অংশই কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হবে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের পর সহকারী শিক্ষক পদে যে শূন্যতা তৈরি হবে, সেসব পদেও নতুন নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেবে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতার মূল কারণ ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে মামলা।

২০১৩ সালে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পর এসব শিক্ষকের চাকরিকাল ও জ্যেষ্ঠতা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ওপরও। তবে গত ২রা জুলাই আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করায় ওই আইনি জটিলতার অবসান হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, সব জেলার তালিকা হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করা যাবে। পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এক অনুষ্ঠানে বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের পর সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদেও নতুন করে নিয়োগ দেয়া হবে।