‘আমরা বিশ্বের কাছে দশ মিনিট চাই, ৯টা বছর পার করেছি। এদেশ আমাদের নয়, আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিকের এমন আকুতির মধ্যদিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পালিত হয়েছে নবম রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস। সমাবেশে বারবার উচ্চারিত হয়েছে, ‘আরাকান আমাদের, আমরা আরাকানের’। ‘নাইন ইয়ারস গন, থিংক টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে ঘরে ফেরার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) আয়োজিত সমাবেশে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত বিভিন্ন বয়সী বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন। সমাবেশে মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমরা বিশ্বের কাছে দশ মিনিট চাই, ৯টা বছর পার করেছি। এদেশ আমাদের নয়, আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই।
এ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আরাকান আমাদের, আমরা আরাকানের’এর চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই। মানবিক বিশ্বকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক সহায়তা করেছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। তবে রোহিঙ্গারা নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। সমাবেশে বার্মিজ ভাষায় বক্তব্য দেন ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব। রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরতে পারেন।
সমাবেশের একপর্যায়ে ১০ মিনিট ধরে রোহিঙ্গা ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় ‘শেষ হতা এক্কান ফিরতে চাই আরকান’ অর্থাৎ ‘আমাদের শেষ কথা একটাই আরকানে ফিরতে চাই’ স্লোগানে নিজেদের প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন তারা।
৯ বছরেও ফেরেনি একজন: মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ শরণার্থী জীবনের ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্টের পর কয়েক মাসে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ এই সময়ে প্রত্যাবাসন নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
