ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন কাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের সরকার। বিদ্যমান কাঠামোয় যেন এই চুক্তি নবায়ন না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দিচ্ছে তারা।
স্থানীয় জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা’র দাবি, বর্তমান চুক্তিতে বিহারের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাই চুক্তিটি সরাসরি নবায়ন না করে নতুন কাঠামো তৈরি করা উচিত। নতুন ব্যবস্থায় বিহারের সেচ, কৃষি, পানীয় জল ও শিল্পের প্রয়োজন বিবেচনায় নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছরের এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। চুক্তির আওতায় প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় গঙ্গার পানি বণ্টন করা হয়।
বিহার এই চুক্তির কোনো স্বাক্ষরকারী পক্ষ নয়। তবে রাজ্যটির দাবি, ভারতের আলোচনার অবস্থান নির্ধারণের সময় গঙ্গা অববাহিকার রাজ্যগুলোর পানির প্রয়োজনও বিবেচনায় নেয়া উচিত।
ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও ভবিষ্যৎ পানি বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সময় বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পরামর্শ করার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে হালনাগাদ জলবিদ্যাগত তথ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নেয়ার কথা বলেছে কমিটি।
এদিকে গঙ্গার পানির স্তর বাড়তে থাকায় বিহারে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সোমবার বিহার সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ার অনুরোধ করেছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে এই অনুরোধ জানানো হয়।
ফারাক্কা ব্যারাজ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। এটি ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করা হয়। ব্যারাজটির মাধ্যমে গঙ্গার পানির একটি অংশ ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় প্রবাহিত করা হয়। কলকাতার দিকে পানির প্রবাহ বজায় রাখাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে বিহারের বন্যা, নদীভাঙন ও পলি জমার সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের সম্পর্ক সরল নয়। এসব সমস্যার পেছনে বন্যা, বৃষ্টিপাত, পলির পরিমাণ, জলবিদ্যাগত পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
গঙ্গা চুক্তির অধীনে বিহারের জন্য আলাদা কোনো পানি বরাদ্দ নেই। বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির পরিমাণ ফারাক্কায় গঙ্গার প্রবাহের ওপর নির্ভর করে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভারত ও বাংলাদেশ নতুন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে। বাংলাদেশের স্বার্থ হলো শুষ্ক মৌসুমে নির্ভরযোগ্য গঙ্গার পানি পাওয়া। অন্যদিকে বিহার চাইছে সেচ, পানীয় জল ও বন্যা ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাক।
ফলে নতুন পানি বণ্টন কাঠামোতে বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোর স্বার্থ কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আউটলুক।
