পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের যথাযথ এবং কার্যকরী ভূমিকার অভাবেই রোহিঙ্গা সংকট এখন আরও বেশি প্রকট হয়েছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তার ভাষ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে। তারা যদি কাজটা ঠিকমতো করতে পারতো এবং আন্তর্জাতিক মহলকে যুক্ত করতে পারতো তাহলে হয়ত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধানের দিকে যাওয়া যেত। কিন্তু সেটা হয়নি। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ওখানে আরাকান আর্মি আছে, রাখাইন স্টেটের অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা আছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক জটিল এখন। আমাদের বর্ডারে অনেক সমস্যা হচ্ছে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সংখ্যাটাও কিন্তু এখন কেউ সঠিক বলতে পারে না। কারণ, প্রতিদিনই কমবেশি মানুষজন আসছে এবং বছরে গড়ে ওখানে ৩০ হাজার শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। আমরা সংখ্যাটা ঠিকমতো এখন জানি না, কিন্তু অবশ্যই ১৩ লাখের ওপরে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এই সমস্যার সমাধানে রাখাইন স্টেটের সঙ্গে, আরাকানের সঙ্গে এবং মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে অফিশিয়ালি-আনঅফিশিয়ালি যোগাযোগ করছে, ডায়ালগ চলছে। এই বিষয়টি একদমই রাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বোচ্চ সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বিরোধীদল হোক, আওয়ামী লীগ বা যে দলই হোক- অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে না থাকে, আটক না থাকে, সেটা অবশ্যই বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বাংলাদেশে সেটি আগে কখনো হয়নি। যার বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, তার নেতাকর্মীরা। আমরা কখনোই চাইব না যে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমলটা ফেরত আসুক। আমরা চাই সবার মানবাধিকার অন্তত মিনিমাম মানবাধিকার যেন প্রত্যেকটি নাগরিককে নিশ্চিত করা হয়।
