ইমরান খান ইস্যুতে বৃটিশ সরকারের নীরবতায় ক্ষুব্ধ জেমিমা গোল্ডস্মিথ

ইমরান খান ইস্যুতে বৃটিশ সরকারের নীরবতায় ক্ষুব্ধ জেমিমা গোল্ডস্মিথ

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বৃটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। সেই সঙ্গে বৃটিশ সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

জেমিমা গোল্ডস্মিথ ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপের জন্য বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টিকে মানবাধিকার জরুরি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেমিমা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জেমিমা লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড : বৃটেন আর কতদিন নীরব থাকবে?

জেমিমা অভিযোগ করেন, গত তিন বছর ধরে ইমরান খান তার রাজনৈতিক বিরোধীদের দ্বারা “নিষ্ঠুরভাবে শাস্তির শিকার” হয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় তাকে একাকী বন্দীশালায় রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি বই, আইনজীবী ও চিকিৎসকের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি লিখেন, প্রায় ১০ মাস ধরে তার পরিবারকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। তাকে সবচেয়ে মৌলিক মানবিক যোগাযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের কথা উল্লেখ করে জেমিমা বলেন, টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দিত্বকে “নির্যাতনের শামিল” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ইমরান খানের প্রায় তিন বছরের বিচ্ছিন্নতা ওই সীমার অনেক বেশি।

এদিন এক্সে জেমিমা বৃটেনের সঙ্গে ইমরান খানের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ইমরান খান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রবেশের আগে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

জেমিমা লিখেন, এই দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। তার দাতব্য কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এর মধ্যে পাকিস্তানের একমাত্র বিনামূল্যের ক্যানসার হাসপাতাল এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাও রয়েছে।
ইমরান খানের সঙ্গে তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিম বৃটিশ নাগরিক বলেও জানান জেমিমা। তার দাবি, তারা নিয়মিত বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

জেমিমার অভিযোগ, দুই ছেলেকে পাকিস্তানের ভিসা দেয়া হয়নি, গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়া হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলার সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

জেমিমা বলেন, ইমরান খানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য তিনি বৃটিশ সরকারের কাছে বারবার আবেদন করেছেন। কিন্তু পেছনে থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথিত প্রচেষ্টাও যে ব্যর্থ হয়েছে, তা স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সাবেক বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, তার দুই ছেলে বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তান গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও বৃটেন হস্তক্ষেপ করবে না।

জেমিমা বলেন, আমি বারবার বৃটিশ সরকারের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছি। পেছনে থেকে যোগাযোগের কথিত প্রচেষ্টাগুলো স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। তবে গত শনিবার পাকিস্তান সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সরকারের দাবি, বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বিপুলসংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে ইমরান খানের বোন উজমা খান সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন, সরকার আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে।