প্রতিশোধ নয়, ম্যাকাই টেস্ট জয় ছিল আত্মসম্মানের লড়াই: কামিন্স

প্রতিশোধ নয়, ম্যাকাই টেস্ট জয় ছিল আত্মসম্মানের লড়াই: কামিন্স

ফন্ট সাইজ:

ডারউইনে ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য এক হারের ক্ষত ভুলে ম্যাকাইয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকরা বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে। প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হেরে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে দ্বিতীয় টেস্টে অজিরা মাঠে নেমে যে দাপট দেখালেন, তা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা এক অস্ট্রেলিয়ার প্রতিচ্ছবি। ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই জয় কোনো প্রতিশোধের বিষয় ছিল না; এটি ছিল দলের আত্মসম্মানের লড়াই।

ম্যাকাই টেস্ট শেষ হয় মাত্র ৭৫০ বলেই, যা গত ৯৪ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম টেস্টের রেকর্ড। প্রথম টেস্টে হারের পর কামিন্স ও তার দল নিজেদের মর্যাদা রক্ষায় মরিয়া ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকাইয়ে প্রথম দিন থেকেই অজিরা ছিল অত্যন্ত ক্ষুরধার ও আক্রমণাত্মক।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, ‘এটা আসলে আত্মসম্মানের ব্যাপার। একটা ম্যাচ হেরে গেলে পরেরটা জেতার জন্য মরিয়া হতে হয়। এতে চেষ্টা বাড়ানো যায় কি না, তা আমি নিশ্চিত নই। তবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোটা খুব দরকার ছিল। আমরা তা করতে পেরে আনন্দিত।’ এই তারকা পেসার আরও বলেন, ‘গত সপ্তাহে অনেক কিছুই ভুল হয়েছিল, কিন্তু এই দুই দিনে অনেক কিছুই আমাদের পক্ষে গেছে। ছেলেরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

ম্যাচটিতে বল হাতে আগুন ঝড়ান মিচেল স্টার্ক। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে তিনিই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ সহজ করে দেন। মোট ১২ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হওয়া এই পেসারের ভূয়সী প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, ‘এভাবে ভেবে তো আর খেলা শুরু করা যায় না। তবে মিচেল স্টার্ক শুরুর দিকেই আমাদের জন্য ম্যাচটা সহজ করে দেয়। তার গড়ে দেয়া ভিতের ওপর ভর করেই আমরা এগিয়ে নিই। শুরুর অর্ধেই আমরা বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিতে পারি।’

ম্যাকাইয়ের পিচ এবং দুই দিনে খেলা শেষ হওয়া নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নানা আলোচনা চলছে। তবে কামিন্স উইকেটের কোনো দোষ দেখছেন না। তার মতে, পিচ বেশ ভালো ও ধারাবাহিক ছিল। কামিন্স বলেন, ‘সবকিছু যেন চোখের পলকে ঘটে গেল। পিচ বেশ ভালোই ছিল। দেখে মনে হয়নি যে এটা পাঁচ সেশনের মধ্যে ৩০ উইকেট পড়ে যাওয়ার মতো। দুর্দান্ত বোলিং যেমন ছিল, তেমনই মাঝে মাঝে গড়পড়তার চেয়েও বাজে ব্যাটিং দেখা গেছে- যার মধ্যে আমি নিজেও আছি। সম্ভবত এসব কারণেই ম্যাচটা দ্রুত শেষ হয়ে গেল।’

দলের তরুণ অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্সও অজি অধিনায়কের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির পর ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও গ্রিন খেলেন ৬৮ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস। কামিন্স বলেন, ‘আমি ওর জন্য সত্যিই খুব খুশি। গতকাল এবং আজ সকালে ও আমাদের ইনিংসটাকে ধরে রাখে। আশা করি, ও এই পারফরম্যান্স থেকে অনেক আত্মবিশ্বাস পাবে। আমরা জানি ও কতটা ভালো এবং টেস্ট ক্রিকেটে ও ক্রমাগত দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছে।’