বিদেশে কর্মসংস্থান, রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সমাজকল্যাণে অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা , বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনকে তাঁর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করা হয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ফেনী আমার ফেনী, ঢাকা’ আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।
বক্তারা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে মোশাররফ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতি, ব্যবসা ও গণমাধ্যমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ্যানী বলেন, মোশাররফ হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তাঁদের কল্যাণে তিনি কাজ করেছেন। মন্ত্রী বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক মানুষকে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে পাঠাতে মোশাররফ হোসেন উদ্যোগ নিতেন। কখনো তিনি কাজের ভিসার ব্যবস্থা করে তাঁদের আগে বিদেশে পাঠাতেন এবং পরে খরচ পরিশোধের সুযোগ দিতেন। কারও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সেই খরচও নিতেন না। এ্যানী বলেন, ‘তিনি আগে তাঁদের বিদেশে পাঠাতেন, পরে তাঁরা টাকা পরিশোধ করতেন।’ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতিও মোশাররফ হোসেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রাণু ও ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান তফাজ্জল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ।
মোশাররফ হোসেনের মেয়ে ও বে ইস্টার্ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারাহ আজজুম বারীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট ৭৪ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৪০ সালের ২২ জানুয়ারি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। ব্যবসা, জনশক্তি রপ্তানি, রাজনীতি ও গণমাধ্যম-বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত ছিল তার কর্মজীবন। জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বে ইস্টার্ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ছিলেন। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশেও তার অবদান ছিল।
দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন্স লিমিটেডের (আইপিএল) অন্যতম স্পনসর-পরিচালক ছিলেন মোশাররফ হোসেন। ১৯৯৫ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ ও ২০০৮ সালে পরপর দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক, তথ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ তিনটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এতে মোশাররফ হোসেনের রুহের মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করা হয়।
