হেডিংলিতে তিন দিনেই বিধ্বস্ত পাকিস্তান

হেডিংলিতে তিন দিনেই বিধ্বস্ত পাকিস্তান

ফন্ট সাইজ:

টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের দুর্দশার চিত্র দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছে সফরকারীরা। ম্যাচটি তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে শেষ হলেও, প্রথম দিনের বৃষ্টির সুবাদে আদতে দুই দিনেরও কম সময়ে জয় নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। হারের পর কোনো রাখঢাক না রেখে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সালমান আলি আগা স্বীকার করেছেন, ঘরে বা বাইরে কোথাও ভালো খেলছে না তাদের দল।

হেডিংলিতে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ইংলিশদের কাছে সম্পূর্ণ কোণঠাসা ছিল পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা আটকে যায় ১৩৫ রানে। ফলে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৪০৯ রানই বড় জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। স্বাগতিকদের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তান ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে জশ টং (৫) ও ওলি রবিনসনের (৫) পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে তাণ্ডব চালান জফরা আর্চার (৩) ও গাস আটকিনসনও (১)।

এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেটই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলেন ইংলিশ পেসাররা। পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

ম্যাচ শেষে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সালমান আলী আগা দলের ব্যর্থতা নিয়ে কোনো অজুহাত দেখাননি। তিনি বলেন, ‘বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং- সব বিভাগেই ইংল্যান্ড আমাদেরকে গুড়িয়ে দিয়েছে। দেশের বাইরে আমরা ভালো খেলছি না। বিশ্বের কোনো জায়গাতেই আমরা ভালো করতে পারিনি। অবশ্যই এটা উদ্বেগের ব্যাপার।’ ইংল্যান্ডের ভিন্ন কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এবং আপনারা দেখবেন পরের ম্যাচে আমরা আরও ভালো খেলবো।’

দলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, চোট কাটিয়ে ফিট হয়েছেন নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজম। লর্ডসে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তিনিই দলের নেতৃত্ব দেবেন। বাবরকে দলে পাওয়া প্রসঙ্গে সালমান বলেন, ‘তিনি আমাদের সেরা ব্যাটার এবং বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের একজন। আমরা অবশ্যই তাকে দলে পেতে এবং অধিনায়কত্ব তার হাতে তুলে দিতে মুখিয়ে আছি।’

এটি পাকিস্তানের শেষ ছয় টেস্টের পঞ্চম পরাজয়। গত তিন বছরে খেলা ১৯ টেস্টের ১৪টিতেই হেরেছে তারা। এই সময়ে দেশের মাঠে ও বাইরে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও টেস্ট সিরিজ হারে দলটি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ ইতিমধ্যে এই দলকে ‘৫০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বাজে দল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।