রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)-এর সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লি সংস্থাটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন’ বলে অভিহিত করেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে- ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মার্কিন এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ‘অবমাননাকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য’ করে আসছে। ওই সংস্থার বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন। আমার মনে হয়, এ ধরনের সংগঠন থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত। কারণ তাদের নিজস্ব এজেন্ডা রয়েছে এবং তাদের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আমরা আশা করি না যে ইউএসসিআইআরএফ ভারতের বহুত্ববাদী কাঠামোর বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেবে কিংবা দেশটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে স্বীকার করবে।
ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি। আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিরোধিতা করেছেন আসিফ। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সরকারের প্রতি আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২৯শে আগস্ট নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের।
মার্কিন এই সংস্থাটি ওয়াশিংটনের প্রতি আরএসএস নেতাদের কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছে। তারা আরএসএসকে একটি ‘ছাতাসদৃশ সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংগঠন ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে’। সংস্থাটি বলেছে, ‘এর পরিবর্তে মার্কিন সরকারের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী আরএসএসের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে মনোযোগ দেয়া।’
এর আগে চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের’ অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনে আরএসএস এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করারও সুপারিশ করেছিল ইউএসসিআইআরএফ।
উল্লেখ্য, ইউএসসিআইআরএফ যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় ফেডারেল সরকারি সংস্থা। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ দেয় এবং এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে।
