আবাসিক ভবন নির্মাণের নামে দখলবাজি সহায়ক উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা: টিআইবি

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) কর্তৃক অভিজাত এলাকা গুলশানে আবাসিক ভবন নির্মাণকে দখলবাজি সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবি বলছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে ওয়াসা গুলশানের ১ বিঘা ১৪ কাঠা জমিতে তড়িঘড়ি করে আবাসন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ জমি দখলবাজি-সহায়ক। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে টিআইবি। নিয়ম-বহির্ভূত ও অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়া মাত্র সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল। তা না করে, প্রস্তাব বিবেচনার নামে রাজউক থেকে বরাদ্দকৃত ওয়াসার জমি ক্ষমতাসীন দল-সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালীর মালিকানাধীন আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়াকে যোগসাজশের দুর্নীতির প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থা। তাই অবিলম্বে এই উদ্যোগকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ওয়াসা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির যে কোনো সম্পদের মালিকানা জনগণের। এ জাতীয় সম্পদ ব্যবহার করে যে কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অথচ দৃশ্যত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাজধানীর অভিজাত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সুবিশাল সম্পত্তিতে ওয়াসা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। যা এ সংক্রান্ত আইন ও নীতি কাঠামোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অধিকন্তু, প্রস্তাবটি যেখানে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল, তা না করে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কমিটি গঠনসহ বিবেচনার নামে লোক দেখানো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমি দখলবাজি চক্রান্তের সঙ্গে বাস্তবে যোগসাজশের ভূমিকা গ্রহণ করেছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

‘প্রস্তাবটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোনো ধরনের চাপের মুখে নয়, বরং ঢাকা ওয়াসার স্বার্থ বজায় রেখে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে’Ñ ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউক থেকে ইজারাপ্রাপ্ত জমি উন্নয়নের নামে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, অথচ রাজউক এ ব্যাপারে অবগত নয়। এখানে মূলত স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজি ও বিশেষ গোষ্ঠীগত স্বার্থে এ জাতীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পত্তি এভাবে গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিল ও মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলে, তা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে না। তা ছাড়া, ঢাকা ওয়াসার কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটির একাংশও এ বিষয়ে তাদের আপত্তি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তদুপরি, যদি ওয়াসা তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে ওই জমিতে ভবন নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কিছু করতেই চায়, তার যথার্থতা যাচাই সাপেক্ষে বিদ্যমান নীতি কাঠামো অনুসরণ করে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্বার্থ বজায় রেখে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক টেন্ডার-প্রক্রিয়ায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, এই প্রত্যাশা করছি। একইসঙ্গে, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাতে যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ, ভয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাই।