মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

কলকাতা ট্র্যাজেডি

মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন তারা। স্বজনদের আশা ছিল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরবেন আপনজন। কিন্তু কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিলো তাদের প্রাণ। এখন স্বজনদের মরদেহ দেশে ফেরার প্রতীক্ষা। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতরা হলেন- কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) এবং একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সকালে বরেয়া গ্রামে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে আছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। কিছুদিন আগেও যে বাড়িতে ছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর অপেক্ষা। বড় ভাই, ভাবী ও স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আলিমুজ্জামান সাজু মৃত মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী। চিকিৎসার জন্য পাঁচ/ছয়দিন আগে ভারতে যান তিনি।

প্রথমে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তারা উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন। পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর নিশ্চিত হন, সাজু আর বেঁচে নেই। সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার কণ্ঠে বলেন, ‘৫ থেকে ৬ দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সঙ্গে লাশের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই। অন্যদিকে একই ঘটনায় নিহত রেবতী সরকারের বাড়ি তেঁতুলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। বাড়ির দরজায় তালা। চারপাশে নীরবতা।

পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় বাড়িটি যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। রেবতী সরকার তেঁতুলিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ভবেশ সরকারের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে অনিক সরকার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। রেবতীর স্বজন তপন সরকার বলেন, ‘রেবতী আমার বৌদি। গতকাল রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন। এদিকে সাজু ও রেবতীর মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর তাদের নিজ নিজ গ্রামসহ স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসা শেষে প্রিয়জন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশা নিয়েই তারা ভারতে গিয়েছিলেন। সেই প্রত্যাশা এখন বদলে গেছে মরদেহ ফেরার অপেক্ষায়।