গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুতে

ফন্ট সাইজ:

গ্যাস সরবরাহ কমেছে। ফলে দেশে লোডশেডিংও বেড়েছে। শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং করতে হচ্ছে অনেক বেশি। এলএনজি কার্গোর অভাবে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বন্ধ হয়ে যাওয়ার  পর দেশে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত দুইদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামাঞ্চলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেড়েছে গ্রাহকদের।
এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার দুপুর আড়াইটার পর থেকে দেশে এক্সিলারেটের টার্মিনালের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এখন নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত মূলত সামিটের টার্মিনাল থেকেই আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ করতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ঘনফুটে। দেশীয় গ্যাসও সামান্য কমে ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে নামে এসেছে। ফলে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ১৬০ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ কমার প্রভাব বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কমে যায়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর গতকালের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৮৫০ মেগাওয়াট। বিপরীতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয় ১৫ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট। সে হিসাবে বিদ্যুতের ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৬০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বিদ্যুতের বিতরণ সংস্থাগুলোকে সারা দেশে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ লোডশেডিং করতে হবে। আর এতে ভুগবে জনগণ। পাওয়ার গ্রিডের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজারের মধ্যে থাকে। ফলে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি মিটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে তাদের।

কর্মকর্তারা জানান, এক্সিলারেটের টার্মিনালে বুধবার দুপুরে মজুত এলএনজি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পেছনে কার্গো সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বয়লার সচল করতে এক্সিলারেট ৭২ ঘণ্টা বিরতির কথা জানিয়েছিল। পরে বয়লার ঠিক হয়ে গেলেও ততক্ষণে কার্গো সংকট তৈরি হয়। ফলে টার্মিনাল চালানোর মতো এলএনজি মজুত ছিল না।

সংকট সামলাতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে নতুন কার্গো কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির জরুরি বৈঠকে সিঙ্গাপুর থেকে দু’টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর একটি আগামী ২৩শে আগস্ট দেশে আসার কথা রয়েছে। কার্গোটি এক্সিলারেটের টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল সচল থাকলেও তার সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। একই সঙ্গে শিল্প, সিএনজি ও অন্যান্য খাতেও গ্যাস সরবরাহ কমছে। নতুন কার্গো ২৩শে আগস্ট সময়মতো দেশে এলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।