কোচিং না করায় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

কোচিং না করায় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

কোচিং না করায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ভাটেরচর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফাতেমা তুজ জোহরা উল্লেখ করে, মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম তাকে প্রতিদিন ক্লাসের পাশাপাশি কোচিং করার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করেন। কোচিং করতে রাজি না হওয়ায় তাকে মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করা হয়। একইসঙ্গে কোচিং না করলে তার সহপাঠীদেরও মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কোচিং না করায় তাকে মারধর করা হয়েছে। শুধু ফাতেমাই নয়, তার সহপাঠীদের সঙ্গেও সুপার বিভিন্ন ধরনের অশোভনমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় ফাতেমা মাদ্রাসায় যাচ্ছে না বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, কোচিং না করলেও টাকা দিতে হবে বলে চাপ দেয়া হচ্ছে। তাকে বেঞ্চ থেকে বের করে মারধর করা হয়েছে বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী। আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কোচিং না করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। ওই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম জানান, মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি ইউএনও’র নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্বল শিক্ষার্থীদের সবল করার জন্য সকালে অথবা বিকালে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে বলা হয়েছে। বছর শেষে দুর্বল শিক্ষার্থীদের ফেল অবস্থায় পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেয়া যাবে না। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং বাবদ টাকা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়ার আগেই সেখানে উপস্থিত অভিভাবকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের বাচ্চাকে এখানে পড়াবেন না। এ সময় স্থানীয় শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে সুপারের এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। অভিভাবকরা অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে এলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা উচিত হয়নি। এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।