আগামী নভেম্বরে ঢাকায় বসবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর। টুর্নামেন্টটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় রূপে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি। এর পাশাপাশি নতুন ট্রফি উন্মোচন এবং ভবিষ্যৎ আসরগুলোকে ‘ফিফা সাফ কাপ’ হিসেবে আয়োজনের জন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। সাফ-এর সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল ঢাকায় নির্ধারিত টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে গতকাল সাংবাদিকদের এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
আগামী ৪ থেকে ১৭ই নভেম্বর ঢাকায় বসবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। অক্টোবরে হবে ট্রফি উন্মোচন। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম প্রযুক্তিগত বিশাল পরিবর্তন হিসেবে ভিএআর চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের সবক’টি ম্যাচে এই প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে। গত জুলাইয়ে আসরের নতুন লোগো উন্মোচনের পর আগামী অক্টোবরে নতুন একটি আধুনিক ট্রফি সবার সামনে প্রকাশ করা হবে। ম্যাচের পাশাপাশি গ্যালারির দর্শকদের মাতাতে মাঠ ও মাঠের বাইরে বেশ কিছু বিনোদনমূলক ও উৎসবমুখর কার্যক্রমের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। আঞ্চলিক ফুটবলের এই লড়াইকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে একধাপ এগিয়ে ভাবছে সাফ। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে এ নিয়ে তারা আলোচনা শুরু করেছে। আসিয়ান কাপ আয়োজন করছে ফিফা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও সেভাবে হবে কি না জানতে চাইলে পুরুষোত্তম ক্যাটেল বলেন, ‘সরাসরি (ফিফার) অধীনে নয়, তারা যেভাবে ফিফা এশিয়ান কাপ করছেÑ আমরাও ফিফার সঙ্গে আলোচনা বা যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি।
তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ নেয়নি। একটা পরিকল্পনা রয়েছে, হয়তো আগামী আসর বা আগামী চ্যাম্পিয়নশিপে আপনারা সেটি দেখতে পারেন।’ ফিকশ্চার ও বাফুফের দায়িত্ব আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সাফ-এর পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ সূচি প্রকাশ করা হবে। টিকিটের দাম ও চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি এখনও নির্ধারণের অপেক্ষায়। টুর্নামেন্ট সফলভাবে বাস্তবায়নে লজিস্টিক, জরুরি চিকিৎসা সেবা ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এদিকে সাফে ঝুলে আছে নেপালের ভাগ্য। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে দলটির অংশগ্রহণ এখন প্রশ্নের মুখে। সাফ-এর পক্ষ থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নেপালের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে তারা ‘এ’ গ্রুপে খেলবে।
তবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে কোনো বিকল্প দেশকে নেয়া হবে না। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে লড়বে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।
