অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তা বৈধ করার চেষ্টার মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফের পিতা-পুত্র দণ্ডিত হয়েছেন। ছেলেকে চার বছর এবং বাবাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ছেলেকে ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৮ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টেকনাফের মো. আবদুল্লাহ ও তার বাবা আবুল বশর। রায় ঘোষণার সময় দুজনই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, ২০১৯ সালে আবদুল্লাহকে সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদের বিবরণী জমা দেননি। পরে দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ১ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৬৫ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায় মাত্র ১০ লাখ টাকা।
অর্থাৎ তার নামে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকা সম্পদের সঙ্গে বৈধ আয়ের অসংগতি পাওয়া যায়। মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল একটি জমি হেবা করে দেয়া। নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২রা নভেম্বর আবুল বশর টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি দলিলের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকায় জমি কেনেন। এর মাত্র তিন মাস পর ২০১৭ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি হেবা দলিলের মাধ্যমে জমিটি ছেলে আবদুল্লাহ’র নামে দিয়ে দেন। দুদকের অভিযোগ, অবৈধ সম্পদ বৈধ করার উদ্দেশ্যেই ছেলেকে ওই সম্পদ হস্তান্তরে সহযোগিতা করেন আবুল বশর। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
