নিয়োগের জন্য নেয়া হয়নি কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা। এজন্য প্রকাশ করা হয়নি কোনো বিজ্ঞপ্তিও। রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতিতেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এভাবেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের অধীন ১৪টি ইউনিয়নে ২৪ জনকে নৌ শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার বিধান। ওই ২৪ জন ছাড়াও নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিসংখ্যান অফিসে কর্মরত আরও চারজনকে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ধরনের আবেদন বা পরীক্ষা ছাড়াই ইউনিয়নভিত্তিক লোক নেয়া হয়েছে। এতে উৎকোচ আদায়ের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়। ২৪ জনের তালিকায় হাটিকুমরুল ইউনিয়নের একই পরিবারের আব্দুল মতিন ও আব্দুল মমিন নামে দুই ভাইয়ের নাম থাকায় বিষয়টি সামনে এসেছে। এমন অনিয়মের মধ্যেই ২০ আগস্ট থেকে নৌযান শুমারী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
তবে বড়হর ইউনিয়নে নৌযান শুমারির জন্য লোক নেয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন উল্লাপাড়া বিআরডিবি কর্মকর্তা ও বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার ইউনিয়ন থেকে নৌযান শুমারিতে লোক নেয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক মাহমুদা খাতুন বলেন, পুরো জেলায় নৌযান শুমারির জন্য মোট ১৫০ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় আবেদন ও পরীক্ষা নেয়া হলেও উল্লাপাড়ায় নিয়োগের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর ছিল। তিনি তার মতো করে লোক নিয়োগ দিয়েছেন।
আবেদন ও পরীক্ষা ছাড়া কীভাবে নিয়োগ দেয়া হলো, জানতে চাইলে মাহমুদা খাতুন বলেন, এটি ইউএনওর দায়িত্ব ছিল। তিনি যেটা ভালো মনে করেছেন, সেটাই করেছেন। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, মাত্র দুই দিন সময় থাকায় আবেদন গ্রহণ ও পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ ছিল না। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌযান শুমারীর দায়িত্ব পরিসংখ্যান অফিসের এটা ইউএনওর বিষয় না, তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
