খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। মহানগরী জুড়ে খুন আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি হত্যাকাণ্ড নগরবাসীকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলছে। নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কচ্ছপ গতি বা নির্লিপ্ততায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. মনজুরুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হরিণটানা ৮০ বিঘা কালভার্ট এলাকায় ১০-১২ জন দুর্বৃত্তরা একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটায়। অপরদিকে তার মাত্র ৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজমুল (২৫) নামের ওই যুবককে গুলি করা হয়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দৌড়ে একটি বাড়ির গলির মধ্যে গিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় নিহত মনজুরুল ইসলাম ওই এলাকার বাসিন্দা খোকনের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে কারা এবং কী কারণে মনজুরুলকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি উপস্থিত রয়েছেন। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার একই এলাকার হরিণটানা ৮০ বিঘা কালভাটের কাছে একই দিনে ফের গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজমুল (২৫) নামের ওই যুবককে গুলি করা হয়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দৌড়ে একটি বাড়ির গলির মধ্যে গিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সৈয়দ মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কে বা কারা তাকে গুলি করেছে, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। গুলিতে নিহত যুবকের নাম নাজমুল—এটুকু জানা গেছে।’
এর আগে একই দিন বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ওই একই এলাকায় সুজন হাওলাদারের চায়ের দোকানের সামনে রাজমিস্ত্রি মো. মনজুরুল ইসলাম (২৩)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফির নেতৃত্বে কালা রায়হান, শামীম, ফারদিনসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী মনজুরুলের ওপর গুলি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত মনজুরুল ইসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে। এদিকে নিহত দুই যুবকের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনায় ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে একই এলাকায় গুলি করে ২ যুবককে হত্যা
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
বাংলারজমিন
২ ঘন্টা আগে
২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১১ঃ৩৪ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
