জ্বালানি সংকটে বিশ্ব, এই সুযোগে ‘পোয়াবারো’ ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের

জ্বালানি সংকটে বিশ্ব, এই সুযোগে ‘পোয়াবারো’ ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের

ফন্ট সাইজ:

ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়েছে এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন গাড়ি চালানোর মৌসুমের চাহিদার মধ্যে বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলো।

যুদ্ধ ও জাহাজ চলাচলে বাধা সত্ত্বেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনারিগুলো জ্বালানি রপ্তানি বাড়িয়ে দিয়েছে। যেসব দেশ আগে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনত, এখন তাদের অনেকেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে।
বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সরবরাহ ব্যাহত থাকা পর্যন্ত ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনারিগুলো বাড়তি রপ্তানি থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করতে থাকবে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন ইয়ে বলেন, আঞ্চলিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে ভারত এশিয়ার ‘সুইং সাপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করে যাবে।”

তার মতে, রিলায়েন্স ও নায়ারার মতো রপ্তানিমুখী রিফাইনারিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রায় উৎপাদন চলায় আঞ্চলিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে ভারত দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও রিফাইনারিগুলো ব্যাপক হারে জ্বালানি রপ্তানি করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ বিভিন্ন ডিস্টিলেট জ্বালানির রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন ১৯ লাখ ব্যারেল, যা রেকর্ড।

একই সময়ে জেট ফুয়েল রপ্তানি হয়েছে প্রতিদিন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ব্যারেল। মে মাসে রেকর্ড করা ৪ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেলের তুলনায় এটি সামান্য কম।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে তেল শোধনের পরিমাণ কমে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। গত বছরের তুলনায় যা প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কম। অন্যদিকে বিশ্বে প্রতিদিন তেলের চাহিদা ১০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি।