শুধু ইমরান নন, সব রাজবন্দির সহানুভূতি ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার আছে

ডনের সম্পাদকীয়

শুধু ইমরান নন, সব রাজবন্দির সহানুভূতি ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার আছে

ফন্ট সাইজ:

শুধু ইমরান খান নন। পাকিস্তানের অন্য রাজনৈতিক বন্দিও রাষ্ট্রের সহানুভূতি ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা সম্পর্কিত সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিষয়ে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এ কথা লিখেছে ডন। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বন্দি হিসেবে তার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে মঙ্গলবার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত চিকিৎসা প্রতিবেদনগুলোতে কারাবন্দি এই নেতার স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক অবনতির যে চিত্র পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। বলেছে, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এই পরীক্ষা তার এক বোন ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে করতে হবে।

আদালত তার রায়ে বলেছে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের এবং সেই কারণে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব- এ বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রেখেছি। অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া স্বস্তির এই ব্যবস্থা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে আরও নির্দেশ দিয়েছে, ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তার ছেলেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগও দিতে হবে।

এর কিছুক্ষণ পরই ইমরান খানের এক বোন নরীন নিয়াজি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হন। পিটিআই নেতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন বিবেচনা করলে মনে হয়, বহু মাস ধরে ইমরান খান কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু তার কারারক্ষীরা ধারাবাহিকভাবে তার অসুস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছেন। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, তারা ইমরান খানের পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে তাকে পরীক্ষা করানোর প্রচেষ্টাকে সক্রিয়ভাবে বাধাগ্রস্ত ও ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছেন।
কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাবেক নেতাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই শোভন নয়। অতীতে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির দুই শীর্ষ নেতাসহ অন্য রাজনৈতিক নেতারাও একই ধরনের বা আরও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা যদি নিজেদের শাসনামলে অন্তত একবারও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে এমন আচরণ না করার জন্য হস্তক্ষেপ করতেন, তাহলে সেটি তাদের জন্য অনেক বেশি জনসমর্থন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারত।

এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। আরও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এখনো কারাগারে রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীও আছেন। তাদের অনেকেই একইভাবে অসুস্থতা অথবা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। তারাও রাষ্ট্রের সহানুভূতি ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।