সিরিয়ায় ওয়াসিম আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার ওয়াসিমকেও একই সাজা দেয়া হলো। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
৪৬ বছর বয়সী ওয়াসিম আল-আসাদ সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর লাতাকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাশার আল-আসাদ ২০০০ সাল থেকে সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক হামলায় দামেস্কের পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর বাশার তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মস্কোয় পালিয়ে যান এবং কড়া রুশ নজরদারিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। আসাদ সরকারের পতনের পর সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম নেতা প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়ায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সরকার আসাদ শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হন এবং ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত ওয়াসিমকে দোষী সাব্যস্ত করে এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান জানান, ওয়াসিম একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং ‘নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা’র মতো অপরাধ করেছেন, যা মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য। আদালত আরও জানান, ওয়াসিমের সাথে যুক্ত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরীয়দের অপহরণ ও হত্যার সাথে জড়িত ছিল, যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। লেবানন থেকে ফেরার পর ২০২৫ সালের জুনে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাবেক শাসনামলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্যাপ্টাগন নামক মাদক উৎপাদন ও পাচারের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আদালত তাকে মাদক পাচারের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ওয়াসিম আল-আসাদের সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।
