ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত । মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে এসব সম্পর্ক বন্ধ করা হয়েছে। আমিরাতের প্রথম সরকারি বিবৃতির প্রায় দুই ঘণ্টা আগে দেশটির বাসিন্দাদের মোবাইলে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
সেখানে বলা হয়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি রয়েছে এবং সবাইকে নিকটতম নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য সেই সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। জুনের একটি ভুল সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে আমিরাতের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করা একটি হামলার সতর্কবার্তার পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম সতর্কতা। এর আগে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি হয়েছিল মে মাসের শুরুতে।
ওদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসি-এর জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারগুলো গত কয়েক সপ্তাহে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানি হামলার সবচেয়ে বড় টার্গেট হয় আমিরাত। প্রায় ৩০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আমিরাতের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। তবে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর, সেটি পরে ভেঙে গেলেও আমিরাত জানিয়েছিল যে- তাদের ওপর আর হামলা হয়নি। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো অবশ্য হামলার শিকার হয়েছিল।
মঙ্গলবার আমিরাত অভিযোগ করে যে ইরান উপসাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের ভূখণ্ডের জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে। অন্যটি ভূখণ্ডীয় জলসীমার মধ্যে পড়ে। পরবর্তী মূল্যায়নে আমিরাত দাবি করে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরান অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।
