সাময়িক পতিত জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার আয়োজিত ‘সাময়িক পতিত জমিতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং আরডিএ গোপালগঞ্জের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহমুদুন্নবী। এছাড়া প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরডিএ খুলনা ও বরিশাল জোনের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকবৃন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, গোপালগঞ্জের অনুষদবর্গ, ব্রাক প্রতিনিধি, প্রাণ আরএফএল প্রতিনিধি, এসিআই প্রতিনিধি, স্কয়ার প্রতিনিধি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারগণ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সাময়িক পতিত জমিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে কৃষক, উদ্যোক্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে সূর্যমুখী তেল উৎপাদন এবং সূর্যমুখী খেতে মৌ চাষের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গোপালগঞ্জ আরডিএ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাজার সংযোগ তৈরির মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার একটি মডেল হিসেবে এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের তেলের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে এবং মধু চাষীদের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক পরিচর্যা ও সম্প্রসারণ সেবার মাধ্যমে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃষকদের পাশে থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে সূর্যমুখী চাষ ও সঠিক উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে ভোজ্যতেলের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। আরডিএ গোপালগঞ্জের পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাহমুদুন্নবী বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে উদ্যোক্তা ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এর ফলে পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কৃষি কর্মকর্তা, গবেষক, উদ্যোক্তা, বেসরকারি সংস্থা ব্রাক, এসিআই, প্রাণ আরএফএল, স্কয়ার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত ও চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। বরিশাল অঞ্চলের কলাপাড়া ও খুলনার পাইকগাছায় সূর্যমুখীর ব্যাপক আবাদ হওয়ায় এ অঞ্চলকে একটি হাব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তারা মতামত প্রদান করেন। এছাড়াও বক্তারা তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন সম্প্রসারণ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রয়োগ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
