রুপুকে সরিয়ে আবাহনীর ম্যানেজার স্বপন

রুপুকে সরিয়ে আবাহনীর ম্যানেজার স্বপন

ফন্ট সাইজ:

সোমবার রাতে ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়েই নতুন মৌসুমের দল গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা আবাহনী। নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি মেলার পর পরই দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে তার পদ থেকে। নতুন ম্যানেজার আবাহনীরই সাবেক ফুটবলার ও নারায়ণগঞ্জের চেনা মুখ শহীদ হোসেন স্বপন। আবারো প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মারুফুল হকই। কোচ-ম্যানেজার দু’জনই বলেছেন, তাদের মৌখিকভাবে দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। কোনো চিঠি এখনো তারা পাননি। তবে দু’জনই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা উঠলেও দল গঠনে নেমে খেলোয়াড়ের সংকটে পড়েছে আবাহনী। কোচের ভাষায়, পছন্দের ফুটবলার পাওয়া যাচ্ছে না। বসুন্ধরা কিংস থেকে সাতজন দেশি ফুটবলার নিয়েছে মোহামেডান।

কিংস থেকে চাইলে আবাহনীও খেলোয়াড় নিতে পারে, কিন্তু তাদের সেই বাজেট নেই। ফলে বড় কোনো নামের দিকে হাত বাড়াতে পারছে না ক্লাবটি। কোচ মারুফুল হক বলেন, ‘ক্লাব থেকে আমার কাছে একটা খেলোয়াড় তালিকা চেয়েছে। সেটা পেয়ে এখন আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি। অন্য ক্লাবের যার সঙ্গে কথা বলছি, সে-ই বলছে সাইন করে ফেলেছে। খেলোয়াড় পেতে কষ্ট হচ্ছে।’ তারপরও মারুফুল হক এখন পর্যন্ত খেলোয়াড় তালিকায় কাদের রেখেছেন? আবাহনী কোচের উত্তর, ‘গতবারের রক্ষণের মুরাদ, ইয়াছিন খান, সবুজ, কামরুল আছে তালিকায়। মাঝমাঠে পাপন সিং, শাকিল। ওপরে আল-আমিন, মিরাজুল, ইব্রাহিম। মোরছালিন-মিতুলও আছে তালিকায়। তবে এই দু’জনের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। আশা করি হবে।

ওরা অফিসিয়ালদের সঙ্গে কথা বলুক। আমার কাজ খেলোয়াড় সিলেকশন করে দেয়া।’ ক্লাবের অন্যতম পরিচালক ও নীতিনির্ধারক বশীর আহমেদ মামুন দল গঠনের দিকটা দেখছেন। বসুন্ধরা কিংসের তারকা খেলোয়াড়দের দিকে হাত বাড়ানো প্রসঙ্গে মারুফুল বলেন, ‘হাত বাড়ালেই তো হবে না। ক্লাবের বাজেট দেখতে হবে। দলবদলের নিষেধাজ্ঞা তুলতেই অনেক টাকা চলে গেছে ক্লাবের।’ গতবারের দল থেকেও আবাহনীর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চলে গেছেন। মালি থেকে আসা তারকা স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে মোহামেডানে ফিরে গেছেন। জানা গেছে, এবার আবাহনী ছেড়ে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা আর আলমগীর মোল্লা গেছেন বসুন্ধরা কিংসে। স্ট্রাইকার এনামুল গাজী গেছেন ঢাকা সিটি ক্লাবে। ক্লাবের নতুন ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন আবাহনীতে ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে যান মুক্তিযোদ্ধায়। সাবেক এই মিডফিল্ডার খেলা ছাড়ার পর আবাহনীর কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। এই প্রথম কোনো দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি পদেও আছেন আড়াই বছর ধরে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে শহীদ উদ্দীন স্বপন বলেন, ‘কাল মামুন ভাই ডেকেছিলেন। বলেছেন, তোমাকে দায়িত্ব দিতে চাই। কীভাবে আমাকে চয়েস করছেন, আশ্চর্য হলাম। আমি প্রস্তুত ছিলাম না এমন কিছুর জন্য।

তবে আমি দায়িত্বটা সানন্দে পালন করবো।’ আবাহনীর টিম ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন এই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুকে বাদ দিয়ে তার সহকারী থেকে ম্যানেজার করা হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামকে। তবে এর এক বছর পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্লাব আবার সিদ্ধান্ত বদল করে এবং রূপুকেই ম্যানেজার পদে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু এবার আবার কেন তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হলো? এনিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি সত্যজিৎ দাস রুপু। ক্লাবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থায় গত বছর রুপু দা দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি আবাহনীর নিষেধাজ্ঞা কাটানোর জন্য কাজ করেছেন। দলও মোটামুটি গুছিয়ে রেখেছিলেন। এখন কেন তাকে সরানো হলে জানি না। হয়তো রাজনৈতিক কোনো চাপ থাকতে পারে’। জানা গেছে শহীদ উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে আসছে নতুন কিছু মুখ।