নতুন প্রামাণ্যচিত্রে গার্দিওলার ‘কঠিন অধ্যায়’ উন্মোচিত

বিবাহবিচ্ছেদের জেরে মানসিক বিপর্যয়

নতুন প্রামাণ্যচিত্রে গার্দিওলার ‘কঠিন অধ্যায়’ উন্মোচিত

ফন্ট সাইজ:

ম্যানচেস্টার সিটির দীর্ঘমেয়াদি কোচ পেপ গার্দিওলার কোচিং জীবনের অন্তিম সময় এবং তার নেপথ্যের ব্যক্তিগত ঝড় নিয়ে নির্মিত নতুন এক প্রামাণ্যচিত্র তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমাজন প্রাইমের সেই প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, সিটির ডাগআউটের ট্যাকটিক্যাল লড়াই ছাপিয়ে কোচ গার্দিওলার জীবনের সবচেয়ে বড় মানসিক বিপর্যয়- তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা সেরার সঙ্গে আকস্মিক বিবাহবিচ্ছেদ। এর প্রভাবই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।
দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিটির অফ ফর্ম এবং মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত সংকটে একেবারে ভেঙে পড়েন ৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচ। সে বছরের নভেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর গার্দিওলার নাক ও মাথায় নখের আঁচড় নিয়ে মিডিয়াতে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়। তবে পর্দার পেছনের এই সত্যটি প্রকাশ করেছেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী মানেল এস্তিয়ার্তে।

খেলোয়াড়দের মানসিকতা পরিবর্তন করতে এস্তিয়ার্তে ড্রেসিংরুমে বলেছিলেন, ‘দয়া করে তোমরা বোঝো, তোমরা এমন কোনো কোচের অধীনে খেলছো না যিনি কেবল একটু আবেগপ্রবণ বা মেজাজি। তোমরা একজন জীবন্ত মানুষকে দেখছো। তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।’
খোদ গার্দিওলাও জুভেন্টাসের কাছে এক ম্যাচে হারের পর দলের সামনে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষত উন্মোচন করেন। খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ছেলেরা, আমি একটা জিনিস স্বীকার করতে চাই। আমি এই গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর মানুষ, আমার স্ত্রী- আমার সাবেক স্ত্রীর থেকে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েছি। আমি তাকে অবিশ্বাস্যভাবে ভালোবেসেছি, কিন্তু বহু কারণে আমরা প্যাশন হারিয়ে ফেলেছি। ফুটবল কীভাবে খেলবে? কারণ তোমরা ভেতরের তাড়না থেকে খেলো। প্যাশন কোথায়? জীবনে যা-ই করবে, প্যাশনের সঙ্গেই করবে।’

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বায়ার লেভারকুসেনের কাছে হারের পর দলের বাজে পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ গার্দিওলা সরাসরি নিজের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি ড্রেসিংরুমে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য কাজ করি এবং আমার জীবন, আমার বিবাহবিচ্ছেদ ও পরিবারকে দূরে সরিয়ে তোমাদের সবার জন্য সবকিছু উৎসর্গ করি। আর বিনিময়ে তোমরা কী ফিরিয়ে দাও? তোমরা যেভাবে খেলেছো, তা একটা লজ্জার ব্যাপার।’
এই প্রামাণ্যচিত্রে আরও উঠে এসেছে অধিনায়ক কাইল ওয়াকারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব, কেভিন ডি ব্রুইনার আবেগঘন বিদায় এবং রায়ান চেরকির মতো তরুণ তারকার অন্তর্ভুক্তি। তবে সব ছাপিয়ে গার্দিওলার ব্যক্তিগত জীবনের এই চরম ব্যর্থতা ও মানসিক সংগ্রামের চিত্র বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এক কোচের মানবীয় ও দুর্বল দিকটিই ফুটবলপ্রেমীদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।