ইয়াঙ্গুনে কলেরা প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে ভর্তি ৫০০

ইয়াঙ্গুনে কলেরা প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে ভর্তি ৫০০

ফন্ট সাইজ:

মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে তীব্র কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৫০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ জনের কলেরা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে বলে সোমবার জানিয়েছেন ইয়াঙ্গুনের এক কর্মকর্তা। মিয়ানমারে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য খাত মারাত্মক চাপে রয়েছে। এই সংঘাতে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতিও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন চ্যানেল নিউজ এশিয়া।

দেশটির আঞ্চলিক সমাজকল্যাণমন্ত্রী বো হতেই জানিয়েছেন, ৯ই আগস্ট থেকে ৫০০ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কলেরার প্রধান উপসর্গগুলোর একটি হলো তীব্র ডায়রিয়া। হাসপাতালে প্রথম রোগী ভর্তি হওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর কলেরার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এটাই ছিল কোনো সরকারি কর্মকর্তার প্রথম নিশ্চিত বক্তব্য।
ইয়াঙ্গুনের আঞ্চলিক পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে তিনি জানান, কলেরার দ্রুত পরীক্ষায় ১৪৯ জনের ফল পজিটিভ এসেছে। তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল হেলথ ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের শরীরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে কলেরার সংক্রমণ হয়। এর ফলে তীব্র ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে এবং চিকিৎসা না করা হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কলেরাকে ‘বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি এবং বৈষম্য ও সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ঘাটতির ইঙ্গিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মন্ত্রী জানান, গত বৃহস্পতিবার এক দিনেই ১০০ জনের বেশি নতুন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এরপর থেকে নতুন রোগীর সংখ্যা কমেছে।

ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯২ বছর বয়সী এক রোগী মারা গেছেন। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার রোববার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের পূর্ববর্তী জটিলতায় মারা গেছেন। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ‘মহামারি বিষয়ক নজরদারি এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা’ গ্রহণ করছেন।