বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠন করা বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে গতকাল। ক্রীড়ামোদি মানুষের আকাশসম প্রত্যাশা আর আকাক্সক্ষা সামনে রেখে সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হককে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়ার পর ক্রীড়াক্ষেত্রে গত ছয় মাসের নানা উদ্যোগ নিয়েছেন আমিনুল হক। দেশের ক্রীড়া খাতকে পেশাদারিত্বের দিকে এগিয়ে নেয়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। চালু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এই দু’টি সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। এনিয়ে গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন আমিনুল হক। তার চুম্বক অংশ মানবজমিন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: দায়িত্ব নেয়ার পর ১৮০ দিন পার করলেন। এই ছয় মাসের কেমন করেছে আপনার মন্ত্রণালয়?
আমিনুল: দেখুন আমি দায়িত্ব নিয়েই ‘ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ শুরু করেছি। দেড় মাসের মাথায় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও মাসিক ১ লাখ টাকা করে ভাতা তুলে দিয়েছি। এই মুহূর্তে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া ভাতার আওতায় আছে। পর্যায়ক্রমে এটা আমরা ৫শ’ জনে রূপান্তরিত করবো। আমরা চার মাস পরপর এটা পর্যালোচনা করবো। ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস চালু করেছি। প্রথম আসর ২৭শে জুলাই শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবরের দ্বিতীয় আসর শুরু হবে। দেখবেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস হবে আগামী দিনে ক্রীড়াবিদ তুলে আনার শক্ত পাইপলাইন। তাছাড়া আমরা পাঠ্য বইয়ে চারটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আগামী বছর থেকে এসব খেলা ছেলে-মেয়েদের বাধ্যতামূলক খেলতে হবে।
প্রশ্ন: আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের অন্তরায় ছিল অর্থ। আপনি এত কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছেন। এর অর্থ আসবে কোথা থেকে? অর্থের অভাবে মাঝপথে থেকে যাবে না তো এসব উদ্যোগ?
আমিনুল: না না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ও ক্রীড়া ভাতার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এ ছাড়া তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন ক্রীড়াক্ষেত্রে যখন যেখানে যা লাগবে তিনি তা দিয়েই সহায়তা করবেন। আগামী পাঁচ বছর পর দেশের ক্রীড়াঙ্গন যাতে শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশ্ন: কিছুদিন আগে ২৭ ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠন করার হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে বাকি ফেডারেশনগুলোর কমিটি দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। ফেডারেশনগুলো কি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বেঁধে দেয়া ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে পারবে?
আমিনুল: আমরা তাদের একটা ডেডলাইন দিয়েছি। তবে এখনো জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন হয়নি। তাছাড়া আগামী মাসে এশিয়ান গেমস আছে। এসব মিলিয়ে হয়তো কিছুটা সময় বেশি লাগবে। তবে আমরা কোনোভাবেই বছরকে বছর অ্যাডহক কমিটি চলতে দেবো না।
প্রশ্ন: ফেডারেশনের অনেক কমিটি নিয়ে বিতর্ক আছে। অনেকের বিরুদ্ধে দুদক তদন্তও করছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে এদের কি বাদ দেবেন?
আমিনুল: দেখুন ২৭টি ফেডারেশনের কমিটি দিয়েছি। এর মধ্যে দু’-একটি নিয়ে কিছু বির্তক হতেই পারে। আর এটা তো অ্যাডহক কমিটি। নির্বাচিত কমিটি নিশ্চয় বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছাড়াই হবে। আর তদন্তে যারা দোষী হবেন তারা অব্যশই বাদ পড়বেন।
প্রশ্ন: গেমসের কথা যেহেতু আসলো। সম্প্রতি কমনওয়েলথ গেমসে ১৫ ক্রীড়াবিদের বিপরীতে ১৭ জন কর্মকর্তা গ্লাসগো গিয়েছেন। এর মধ্যে দু’-একটি ডিসিপ্লিনে কোচকে না পাঠিয়ে কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে গেছেন। এশিয়ান গেমসেও এমন ভ্রমণের কথা শোনা যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে আপনার পদক্ষেপ কি?
আমিনুল: এগুলো গত সরকারের আমলেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তারপরেও আমি অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছি। আমি তাদের বলেছি, রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করে কেউ যেন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ না পায়। আর কোচের বিষয়ে আমার পরিষ্কার নির্দেশনা হচ্ছে, যেসব কোচ দেশে সারা বছর ট্রেনিং করাবে, অবশ্যই সেই কোচ দলের সঙ্গে যাবে। তবে ভবিষ্যতে গেমসগুলো নিয়ে আমার ভিন্ন পরিকল্পনা আছে। আমরা ফেডারেশনগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সারা বছর ট্রেনিংয়ের মধ্যে রাখতে চাই। যাতে করে অন্তত পাঁচ বছর পরে হলেও অলিম্পিকে আমরা প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে পারি।
প্রশ্ন: প্রায় প্রতিটি সরকারই দায়িত্ব নিয়ে খেলার চেয়ে অবকাঠামো দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। আপনি অবশ্য প্রচুর মাঠ তৈরির কথা বলছেন। এটা আসলে কতোটুকু সম্ভব?
আমিনুল: আসলে আমরা বেশি অবকাঠামো তৈরিতে ঝুঁকতে চাই না। যেগুলো আছে সেগুলো সংস্কার করতে চাই। আর বাচ্চাদের খেলার জন্য মাঠ করতে চাই। এরই মধ্যে তিনশ’ সংসদ সদস্যকে ডিও দিয়েছি। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ করার জন্য। এটা করতে পারাটাই হবে আমার মন্ত্রণালয়ের একটা বড় সফলতা। যার সুফল পাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
