ডারউইনের ধাক্কায় নড়েচড়ে বসছে অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনের ধাক্কায় নড়েচড়ে বসছে অস্ট্রেলিয়া

ফন্ট সাইজ:

সিরিজ শুরুর আগে এমনটা কেউ ভাবেনি। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া তো নয়ই, বাংলাদেশও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ছিল না। দেশ ছাড়ার আগে টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন পাঁচ দিন লড়াইয়ের বার্তা। সেই লড়াই হয়ে গেছে একপেশে। দাপট দেখিয়ে ডারউইন টেস্ট ৯ উইকেটে জিতে নেয় বাংলাদেশ। এ জয়ে মাথা কাটা গেছে অস্ট্রেলিয়ার। বাংলাদেশ প্রশংসা পাওয়ার বিপরীতে অজিরা সহ্য করছে সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে দল গঠন নিয়ে। ম্যাকাও টেস্টের একাদশে পরিবর্তনের আভাসও মিলেছে।

চেনা আঙিনায় প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েও ম্যাচে সফরকারীদের বিপদে ফেলতে পারেনি তারা। হাসান মাহমুদের তোপে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরুন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ায় অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৮৪ রানে। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেয়া বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে ৫৭ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যায়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে গিয়ে দেশটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার লজ্জাজনক হারের পর একাদশ নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। সম্প্রচারক চ্যানেল সেভেনের বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক পরাজয় হয়ে দাঁড়ালো। আমার মনে হয় তাদের (অস্ট্রেলিয়া দলে) পরিবর্তন আনাটা অবশ্যম্ভাবী। গত গ্রীষ্মের শেষেই আমি বলেছিলাম যে কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের কারণে দল পুনর্গঠন শুরু করার এটাই আদর্শ সময়।’ অস্ট্রেলিয়া একাদশে এখন বুড়োদের মেলা। স্কোয়াডে ত্রিশের কম বয়সী একমাত্র ক্রিকেটার ক্যামেরুন গ্রিন। সবচেয়ে বেশি বয়স স্পিনার নাথান লায়ন। ৩৮ বছর বয়সে খেলছেন ডানহাতি অফস্পিনার। স্কোয়াডের গড় বয়স প্রায় ৩৪ বছর। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার স্টিভ স্মিথ ৩৭ বছরে রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর বেশি দিন হয়তো ডানহাতি এ ব্যাটারকে দেখা যাবে না। স্কোয়াডের সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম মারনাস লাবুশেন। ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার জাতীয় দলের হয়ে ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর শেষ ৪২ ইনিংসে তার সেঞ্চুরি নেই। গড় মাত্র ২৫.৩২, ফিফটি কেবল ৯টি। ডারউইনে দুই ইনিংস মিলে করেন ৩২ রান। গত ৯ টেস্ট ইনিংসে ১৮.৪৪ গড়ে করেছেন ১৬৬ রান। ত্রিশের ঘরে পৌঁছালেও তা বড় ইনিংসে রূপ দিতে ব্যর্থ হন লাবুশেন। তরুণ ওপেনার জ্যাক ওয়েদারল্ডও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। ডারউইনে ২৩ ও ০ রান করার পর ১২ ইনিংসে তার গড় নেমে এসেছে ২০.৩৬-এ। ম্যাকাও টেস্টের আগে ঘরোয়া ক্রিকেট না থাকায় বিকল্প বা স্কোয়াড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। দলে অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে আছেন জশ ইংলিশ। এ ছাড়া ম্যাট রেনশো আলোচনায় আছেন।

রেনশো গত শিল্ড মৌসুমে ১০ ইনিংসে ৪৯.৯০ গড়ে তিনটি সেঞ্চুরি করে নির্বাচকদের চোখে ভালোভাবেই রয়েছেন। অভিজ্ঞ অফ স্পিনার নাথান লায়নও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ডারউইন টেস্টে ১২৫ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ৫৬৮ টেস্ট উইকেটের মালিক এই বোলারের বর্তমান গড় ৩০.৩২। প্রথম ইনিংসে ১০২ রান দেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও রান আটকাতে পারেননি। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড অবশ্য লায়নের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ম্যাকাও টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়ছেন না লায়ন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাদা পোশাকে তিন নম্বরে নেমে ২৯ ইনিংসে ৬৭.০৭ গড়ে রান তুলেছেন স্টিভ স্মিথ। বয়স বিবেচনায় খুব বেশি দিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাকে খেলতে দেখা যাবে না। এ কারণে দলে তরুণদের সুযোগ করে দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন পন্টিং। তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক বা খেলোয়াড় হিসেবে আমি সব সময় দলটাকে একসুরে ধরে রাখতে চেয়েছি। কাউকে বাদ দেয়ার কথা বলার আগে পরিস্থিতি বেশ খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়। তবে এখানে আসার আগেই আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করলে, নতুন কোনো ওপেনার বা তিন নম্বর পজিশনে কাউকে সুযোগ দিলে তাদের হারানোর মতো কিছু বা খুব বেশি কিছু নেই। আমার মনে হয় এটি এখন করতেই হবে।’