ফুটবল মানেই এক অবিরাম রোমাঞ্চের স্রোত, আর সেই স্রোতের অন্যতম মধ্যমণি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্ব জুড়ে যার নামের পাশে জড়িয়ে আছে সাত সংখ্যাটিÑ তার সৌভাগ্যের প্রতীক- তিনি এবার জীবনের আরেক অধ্যায়ে পা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই নতুন আভাস দিলেন সিআরসেভেন। প্রখ্যাত সুরকার ও গীতিকার প্রিন্স মাহমুদের লেখা এবং জেমসের গলার সেই বিখ্যাত গানটিই যেন গেয়ে উঠলেন পর্তুগিজ মহাতারকা- ‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা, হতেও পারে এই গানই শেষ গান’। চলতি মৌসুমই হতে পারে তার বর্ণাঢ্য পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। সম্প্রতি পর্তুগালের কাসকাইসে নতুন সমুদ্রসৈকতের বাড়িতে বসে ভোগ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিংবদন্তি ফুটবলার জানিয়েছেন তার অবসরের পরিকল্পনা এবং জীবনের নতুন রূপরেখার গল্প।
ফুটবলের সবুজ গালিচা থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রোনালদো। তবে মাঠের বাইরে তার জীবনের গোলটি হয়ে গেছে বহু আগেই। সম্প্রতি দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর সঙ্গিনী জর্জিনার সঙ্গে এক অত্যন্ত ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম দেখার পর থেকেই শুরু হয় তাদের এই রূপকথার মতো পথচলা। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তৈরি হওয়া পর্তুগালের নতুন বাড়িতে, তাদের বসার ঘরেই অত্যন্ত সাদামাটা অথচ আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে তাদের এই বিবাহ অনুষ্ঠান। সেখানে অতিথি হিসেবে ছিলেন কেবল তাদের সন্তানরাই।
জর্জিনা আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি হয়তো সবচেয়ে বড় দুর্গ, রাজকীয় গাড়ি আর লম্বা গাউনের স্বপ্ন দেখতাম। তবে এখন আমি অন্য কথা ভাবি। আমি আমার ভালোবাসার মানুষ ও সন্তানদের নিয়ে একদম নিভৃতে, নিজের ঘরেই এই দিনটি কাটাতে চেয়েছি।
কারণ প্রাসাদ, গাড়ি, দ্বীপ- এসব তো আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ। তবে এমন একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত আমাদের জন্য বিরল।’
বিয়ের দিনটিতে তাদের পরনে ছিল বিশেষ গুচির পোশাক, যা তাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্যাথলিক তীর্থস্থান, পর্তুগালের ফাতেমার অভয়ারণ্যে গিয়ে আশীর্বাদ নেন এই দম্পতি।
ফুটবল ছাড়ার পর জীবনটা কেমন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, ‘এটি সম্ভবত আমার ফুটবলের শেষ বছর এবং আমি একটি চমৎকার উত্তরাধিকার রেখে যেতে চাই। ফুটবল ছাড়ার পর শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তাই আমি আমার সময়কে নানাভাবে ভরিয়ে রাখতে চাই। পরিবারকে সময় দেয়া, প্যাডেল খেলা উপভোগ করা এবং গত ২৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল উপভোগ করাÑ এটাই আমার পরিকল্পনা।’
অন্যদিকে জর্জিনাও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাদের সন্তানদের নিয়েই তাদের পৃথিবী। ঘরোয়া পরিবেশে খুব সাধারণ অথচ বিশেষ একদিনের মধ্যদিয়ে তারা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। বিয়ের পর কোনো হানিমুনে না গিয়েই তারা সোজা রিয়াদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, কারণ রোনালদোকে ১৫ই আগস্ট থেকে সৌদি প্রো লীগের আল নাসরের হয়ে নতুন মৌসুমের খেলা শুরু করতে হতো। তবে তাতে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই রোনালদোর, বরং হাসিমুখে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিদিনই তো আমাদের কাছে হানিমুনের মতো!’
ফুটবলের রূপকথার এই নায়কের বুট জোড়া হয়তো অচিরেই দেয়ালে টাঙানো হবে। কিন্তু সবুজ মাঠের জাদুকর থেকে একজন সুখী পারিবারিক মানুষ হয়ে ওঠার এই রূপান্তর ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। একটি যুগের অবসান ঘটতে চলেছে ঠিকই, তবে সিআরসেভেনের মহাকাব্যিক পথচলা মানুষের মনে চিরসবুজ হয়ে থাকবে।
