ব্যায়াম থেকে ফিরেই পুরুষাঙ্গ ছোট, ‘জিম পেনিস’ নিয়ে চমকপ্রদ ব্যাখ্যা

ব্যায়াম থেকে ফিরেই পুরুষাঙ্গ ছোট, ‘জিম পেনিস’ নিয়ে চমকপ্রদ ব্যাখ্যা

ফন্ট সাইজ:

জিমে কঠোর ব্যায়াম করার পর অনেক পুরুষই লক্ষ্য করেন, তাদের পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট বা শরীরের ভেতরের দিকে সঙ্কুচিত দেখাচ্ছে। অনলাইনে অনেকে মজা করে এই ঘটনাকে ‘জিম পেনিস’ বা ‘ওয়ারিয়র পেনিস’ নামে ডাকেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি কোনো স্বীকৃত রোগ বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা-নির্ণয় নয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, ব্যায়ামের সময় শরীরে রক্তপ্রবাহ, তাপমাত্রা ও পেশির সংকোচনের সাময়িক পরিবর্তনের কারণেই এমনটা দেখা যেতে পারে।

ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ ছোট দেখায় কেন?
জিপি ও প্রেসক্রিপসন ডক্টরের চিকিৎসা পরামর্শক ডা. জিউসেপ্পে আরাগোনা জানান, তিনি এ ধরনের বিষয় আগে দেখেছেন। তার মতে, বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কার্ডিও ব্যায়াম, ভারোত্তোলন কিংবা ঠান্ডা পরিবেশে ব্যায়াম করার পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট বা শরীরের ভেতরের দিকে সঙ্কুচিত দেখাতে পারে।

ব্যায়ামের সময় শরীর তার রক্তপ্রবাহের একটি বড় অংশ সক্রিয় পেশি ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর দিকে পরিচালিত করে। একই সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং পুরুষাঙ্গের চারপাশের মসৃণ পেশি ও টিস্যুর সংকোচন ঘটে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে পুরুষাঙ্গ স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট বা বেশি সঙ্কুচিত মনে হতে পারে। এমনকি ব্যায়ামের সময়, জিমের ঠান্ডা চেঞ্জিং রুমে কিংবা বাড়ি ফেরার পরও বিষয়টি চোখে পড়তে পারে।

অনলাইনেও অনেক পুরুষের একই অভিজ্ঞতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রেডিটের বিভিন্ন আলোচনায় বহু পুরুষ জানিয়েছেন, কঠোর ব্যায়ামের পর তাদের পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ সাময়িকভাবে ‘সঙ্কুচিত’ হয়ে যায়।

একটি আলোচনায় একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেন, জিমে গেলে তার পুরুষাঙ্গ কেন এত ছোট হয়ে যায়। উত্তরে একজন বলেন, এর পেছনে মূলত রক্তপ্রবাহের সাময়িক পরিবর্তন দায়ী হতে পারে। অন্য একজনের মতে, রক্তপ্রবাহের পাশাপাশি আঁটসাঁট কমপ্রেশন শর্টসও এর একটি কারণ হতে পারে।
আরেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, ব্যায়াম যত কঠিন হয়, শিথিল অবস্থায় পুরুষাঙ্গ তত ছোট- এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত শক্তও দেখাতে পারে।

কতক্ষণ স্থায়ী হয় ‘জিম পেনিস’?
ডা. আরাগোনার মতে, এ অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে ব্যায়াম বন্ধ করার পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করলে সাধারণত পুরুষাঙ্গের চেহারাও স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিবর্তনটি চলে যেতে পারে। তবে ব্যায়াম কতটা কঠিন ছিল এবং কতক্ষণ করা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা বেশি সময়ও লাগতে পারে।
যদি বিষয়টি সাময়িক হয় এবং অন্য কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত?
তবে পুরুষাঙ্গ বা অণ্ডকোষে বারবার কিংবা তীব্র ব্যথা, অসাড়তা, অস্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন, ফুলে যাওয়া অথবা যৌন সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টিকে শুধু ব্যায়ামের প্রভাব বলে ধরে নেয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে হঠাৎ তীব্র অণ্ডকোষের ব্যথা অথবা পুরুষাঙ্গ অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা উল্লেখযোগ্যভাবে রঙ পরিবর্তন করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

‘জিম পেনিস’ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবেন কীভাবে?
এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয় বলে এর জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসাও নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ হলো, শরীরকে স্বাভাবিকভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়া।
ব্যায়ামের পর ধীরে ধীরে কুল-ডাউন করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী। ঠান্ডা পরিবেশে ব্যায়াম করলে শরীরকে ধীরে ধীরে উষ্ণ করাও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করতে পারে।

তবে জোর করে পুরুষাঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা বা হাত দিয়ে অতিরিক্ত চাপ কিংবা ম্যানিপুলেশন করা উচিত নয়। শরীরকে স্বাভাবিকভাবেই রক্তসঞ্চালন পুনরুদ্ধার করতে দেয়া সবচেয়ে ভালো।

অর্থাৎ, জিমে কঠোর ব্যায়ামের পর সাময়িকভাবে পুরুষাঙ্গ ছোট দেখালে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। শরীর ঠান্ডা হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে ‘জিম পেনিস’ও সাধারণত নিজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
তথ্যসূত্র: মেট্রো