বাংলাদেশ সরকারের বিশাল মন্ত্রীপরিষদ নিয়ে বিপাক, বিতর্ক ও বিড়ম্বনা নতুন কিছু নয়। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেবিএনপি বিজয়ী হয়েছে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে। দলীয় চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় ৪৯ সদস্যের মন্ত্রীপরিষদ। এ মন্ত্রীপরিষদে স্থান পেয়েছেন ২৫ জন পূর্ণ এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। বেশ কয়েকজন টেকনোক্রেটও রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদে। একজন মন্ত্রী যেমন একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, তেমনি প্রতিমন্ত্রীও আছেন অনেক মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রীপরিষদের পাশাপাশি গঠিত হয়েছে বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদ। নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুত ছোট মন্ত্রীপরিষদ গঠন করতে পারেনি বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হচ্ছে১৭ আগস্ট। মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সক্ষমতা এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে চলছে মূল্যায়ন।ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে সরকার ভাবছে মন্ত্রীপরিষদ আরও সম্প্রসারণের কথা। দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে মন্ত্রিসভায়। যুক্ত হতে পারে আরো নতুন মুখ।এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। বিগত পঞ্চান্ন বছরে রাষ্ট্রপতি শাসিত কিংবা সংসদীয় সরকারগুলো গঠন করে বিভিন্ন আকারের মন্ত্রীপরিষদ। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারগুলো পরিচালিত হয়েছে ক্ষুদ্রাকার উপদেষ্টা পরিষদ দ্বারা। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৬২ সদস্যের মন্ত্রিসভা ছিলো ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মোটেই মানান সই নয় বাংলাদেশ সরকারের মাথাভারী মন্ত্রিপরিষদ।বড় আকারের মন্ত্রী পরিষদ হতে পারে সুশাসনের অন্তরায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রী পরিষদ। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মন্ত্রীসভা গঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি। বাকশাল গঠনের পর ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার সাংবিধানিক মন্ত্রীসভা কাঠামোতে পরিবর্তন আনে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে কার্যকর হয় প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক মন্ত্রী পরিষদ। বিট্রিশ আমলে ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ এর বিধান অনুযায়ী অবিভক্ত বাংলায় প্রথম শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত হয় কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের যৌথ মন্ত্রিসভা। ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালের আগষ্টে পূর্ব বঙ্গের প্রথম প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠিত হয় খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে। ‘রাজপরিষদ বা দরবার’ নামে প্রাচীন রাজা বাদশাহদের ছিলো মন্ত্রী পরিষদ। মধ্যযুগের মুঘল বাদশাহদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছিলো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার ৯ গুনীজনের ‘নবরত্ন’ ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে এখনো।
মন্ত্রিপরিষদের দায়বদ্ধতা
মন্ত্রী পরিষদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা জাতীয় সংসদের নিকট। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ। অর্থাৎ সরকার, সংসদ ও আদালত। সংসদীয় গণতন্ত্র কিংবা রাষ্ট্রপতি শাসিত যে-কোনো পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে পারে রাষ্ট্র। কিন্তুপ্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয় বিশাল একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করা। প্রাত্যহিক প্রশাসনিক কর্ম, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারন, অর্থনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদনের জন্য একটি মন্ত্রীসভা অপরিহার্য। মন্ত্রীপরিষদ বা মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে গৃহীত হয় রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্ত সমূহ। মন্ত্রীসভার সদস্যগণই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করে থাকেন সরকারি বিল। গুরুত্ব¦পূর্ণ এসব বিল আইনে পরিণত হলে তা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বও বর্তায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও তাদের মন্ত্রণালয়ের উপর। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জাতীয় সংসদ বা আইন সভার কাছে মন্ত্রীরা নীতিগতভাবে বাধ্য থাকেন জবাবদিহি করতে। রাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসনে প্রতিটি খাতকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় মন্ত্রীদেরকে। বার্ষিক বাজেট তৈরী এবং দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রূপকারের দায়ভারও নিতে হয় মন্ত্রীপরিষদকেই। সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা মন্ত্রিসভার উপরই নির্ভরশীল। এজন্য প্রয়োজন সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য মন্ত্রীপরিষদ। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভর করলে রাষ্ট্র চলবে না। মন্ত্রীসভার উপরই নির্ভর করে প্রতিটি দেশের সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের ভুল সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত মন্তব্য ও দুর্নীতি অনিয়মের কারণে বিপাকে পড়েন সরকার প্রধান। তৈরি হয় পদত্যাগের পরিস্থিতি। চূড়ান্তভাবে পতন ঘটে সরকারের।
কিচেন ক্যাবিনেট
ঢাউশ মন্ত্রিসভা নিয়েও রাষ্ট্র পরিচালনায় হিমশিম খেতে হয় সরকার প্রধানকে। রাষ্ট্রের অনেক গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রধান মন্ত্রীসভার বৈঠকে তা অনুত্থাপিত রাখেন। কিচেন ক্যাবিনেট হলো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের মন্ত্রিসভার বাইরের একটি ক্ষুদ্র অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা। এটি কোনো সাংবিধানিক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান নয়। সরকারপ্রধান তাঁর একান্ত বিশ্বস্ত উপদেষ্টা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব বা দলের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের সাথে গোপন আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। এই গোষ্ঠীর সাহায্য নেওয়া হয় অত্যন্ত গোপনে এবং দ্রুত জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে। যা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে অনেক সময়। কিচেন কেবিনেটের ধারণার উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ম প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের শাসনামল থেকে। তিনি তাঁর আনুষ্ঠানিক মন্ত্রীদের এড়িয়ে ব্যক্তিগত বন্ধুদের সাথে রান্নাঘরের গোপন দরজায় বসে আলোচনা করতেন বলে একে বলা হয়।‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা রান্নাঘরের মন্ত্রিসভা। আর সেসব বিষয়গুলো নিয়ে তিনি পরামর্শ করেন মন্ত্রী সভার ঘনিষ্ঠ কতিপয় সদস্যের সাথে। বাংলাদেশে কিচেন ক্যাবিনেট প্রায় প্রতিটি সরকারের আমলেই কার্যকর ছিলো। সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিচেন কেবিনেটের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
যেমন হওয়া উচিত মন্ত্রী পরিষদের আকার।
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ঠিক করেন কতজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন মন্ত্রিসভায়। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি মডেলের আদলে। খালেদা জিয়া যখন ১৯৯১-তে ক্যাবিনেট গঠন করেন তখন প্রথমে ১০ জন ছিল পূর্ণমন্ত্রী, বাকিরা সবাই প্রতিমন্ত্রী।গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সুপারিশ করেছিল সরকারের মন্ত্রিসভা ৩৫ করার। বর্তমানে মোট ৪৩টি মন্ত্রণালয় এবং ৬১টি বিভাগ রয়েছে। প্রতিবেদনে প্রস্তাব করা হয়েছে মোট ২৫টি মন্ত্রণালয় ও ৪০টি বিভাগে পুনর্বিন্যাস করার। ২৩ জন মন্ত্রী রাখার সুপারিশ করে সংস্কার কমিশন। এর মধ্যে দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ ছাড়া বলা হয়েছে ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাখার কথা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ৪৪।
বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী পরিষদের আকার ভিন্ন। আফ্রিকার দেশ ঘানায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১১০ সদস্যের মন্ত্রী পরিষদ। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে জোট সরকারের কারণে রয়েছে বড় আকারের মন্ত্রিসভা। অপরদিকে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মন্ত্রীপরিষদ তূলনামূলকভাবে ক্ষুদ্রাকৃতির। বিশাল আয়তন, বিপুল জনসংখ্যা ও বিত্তশালী যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার মন্ত্রী পরিষদ মাত্র ১৫ সদস্যের। ইউরোপের দেশগুলোর মন্ত্রিসভার গড় সংখ্যা ১৫ থেকে ২০জন। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স এবং হাউজ অব লর্ডস মিলিয়ে গঠিত সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সাধারণত ২২ থেকে ২৮ জন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রী পরিষদ ২২ সদস্যের। বাংলাদেশের চেয়ে ২২ গুণ বড় দেশ ভারতের বর্তমান মোদী সরকারের পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে মন্ত্রী পরিষদের মোট সদস্য ৭০ জন। বিশ্বের ইতিহাসে ২০২৪ সালে ক্ষুদ্র মন্ত্রিসভা গঠন করে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানার। তিন সদস্যের এই মন্ত্রী পরিষদ ছিলো ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি ঘটনা।
বড় মন্ত্রিপরিষদের নেতিবাচক প্রভাব
মন্ত্রিপরিষদের আকার যতো বিশাল হয়, সংসদ সদস্যদের মাঝে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্যতা ততোই বৃদ্ধি পায়। দলীয় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের মাঝে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টার মোট সংখ্যা বর্তমানে ৭০ ছাড়িয়েছে। এতে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন সংসদ সদস্য লাভ করেছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপদেষ্টার বিশেষ মর্যাদা। আর যারা মন্ত্রীপরিষদে স্থান পাননি, বিশেষ দুঃখবোধ তাড়া করছে তাদেরকে। তাদের অনেকেই ভুগছেন একধরণের হীনমন্যতায়।এসব কারণে সরকার ও দলে বৃদ্ধি পায় উপদলীয় কোন্দল। বড় মন্ত্রিপরিষদে সংখ্যাধিক্যের কারণে বিস্তৃতি ঘটে দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি ও অনিয়মের। সচিবালয় ও জাতীয় সংসদে হাট বসে তদ্বির বাণিজ্যের। মন্ত্রীদের অজান্তেই নিজ এলাকায় গড়ে উঠে বিশেষ সিন্ডিকেট। বৃদ্ধি পায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। মন্ত্রীসভার অভ্যন্তরেও দানা বাঁধে উপদলীয় কোন্দল-কলহ। মন্ত্রিপরিষদের রদবদলের কারণে অবমূল্যায়িত মন্ত্রীগণ ক্ষোভে-দুঃখে অনেক সময় লিপ্ত হন ষড়যন্ত্রে।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও শিকার হয়েছেন এধরণের ষড়যন্ত্রের। অভিযোগ আছে জিয়া হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তারই মন্ত্রিসভার পাঁচজন সদস্য। পঞ্চপান্ডবখ্যাত এসব মন্ত্রীরা পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদের সরকার ও দলে অধিষ্ঠিত হন শীর্ষপদে। জিয়া হত্যাকান্ডের মূলোৎঘাটন না হওয়ায় তারা থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার আড়ালেই। বিএনপির রাজনৈতিক গবেষণা সেল না থাকায় অনেক তথ্যই গোচরে নেই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের। শহীদ জিয়া মন্ত্রীদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলেও তাদের সব কর্মকাণ্ড ছিলো তার নখদর্পণে। প্রায়শই মধ্যরাতে মন্ত্রিপরিষদের সভা ডাকতেন জিয়া। একারণে জিয়ার উপর বিরক্ত ছিলেন অনেক মন্ত্রী।
অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে আমলা নির্ভর হয়ে পড়েনঅনেকমন্ত্রী। এই সুযোগে আমলারা গুছিয়ে নেন তাদের আখের। জড়িয়ে পড়েন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সিন্ডিকেটে। প্রশাসন হারিয়ে ফেলে তার নিরপেক্ষতা।এভাবেই তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে বিস্তার ঘটে দলীয়করণের। ফলে মন্ত্রীর সংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দুর্নীতি-অনিয়ম। বিপুল অর্থবিত্তে ফুলে ফেঁপে উঠেন আমলারা। তারা নিজেরা বিদেশে অর্থ পাচারে বেপরোয়া হয়ে উঠার পাশাপাশি একই পথ বাৎলে দেন মন্ত্রীদেরকে। স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে নয় মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।
বড় আকারের মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো হলো সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি। মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং রাজনৈতিক তোষণের কারণে অযোগ্য ব্যক্তির পদায়ন। প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় যেসব বড় সমস্যা তৈরি হয়। চাপ পড়ে সরকারি কোশাগারের ওপর।অতিরিক্ত বিশাল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ রাখতে হয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতন-ভাতা, প্রটোকল, গাড়ি, নিরাপত্তা এবং দপ্তর পরিচালনার জন্য। ফলে বরাদ্দ কমে যায় জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক খাতে। বাড়ে কাজের সমন্বয়হীনতা, শ্লথ হয় মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক গতি। মন্ত্রীর সংখ্যা বেশি হলে কঠিন হয়ে পড়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মতৈক্যে পৌঁছানো। জরুরি জাতীয় সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক অনুমোদন প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক তোষণ ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার জন্য অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়।এতে জবাবদিহিতা হ্রাস, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি প্রশ্রয় পায় সুশাসন ও আইনের শাসনের পরিবর্তে।মন্ত্রিসভা বড় হলে কঠিন হয়ে পড়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সামগ্রিক ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করা। দুর্বল হয়ে যায় নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা, ফলে ক্ষন্নু হয় সরকারের সামগ্রিক ভাবমূর্তি।
সম্পাদক,সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক
বড় মন্ত্রিপরিষদের বিড়ম্বনা
ডাঃ ওয়াজেদ খান
মত-মতান্তর
১ ঘন্টা আগে
১৭ আগস্ট (সোমবার), ২০২৬, ১০ঃ১৪ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
