পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তার সুইসাইড নোট, মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখা হবে। সাবেক এই মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতিগ্রস্তরা ভয় দেখিয়ে থাকতে পারে। কেউ ব্ল্যাকমেইল করে থাকতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত বিধায়ককে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন- যিনি তার সমগ্র জীবন জনসেবা ও শিক্ষকতায় উৎসর্গ করেছিলেন। তবে মমতার অভিযোগ কয়েক দিনে প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে রোববার ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রামপুরহাটে তার বাসভবনের কাছে অবস্থিত ওই দলীয় কার্যালয় থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন তুলেছেন- আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কি আত্মহত্যাই করেছেন? তাকে খুন করা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি জানিয়েছেন। সুইসাইড নোটটি খতিয়ে দেখতে হবে বলে মত তার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য মনে করেন, আত্মহত্যা হলেও আশিসের এই মৃত্যু প্ররোচনার ফল। তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া হয়েছিল। তৃণমূলের সাবেক বিধায়কের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হলো, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন।
সারাজীবন শিক্ষকতা করেছেন। উদ্ধার হওয়া এক পাতার সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ নিজের রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপও করেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের কাউকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বারবার দাবি করেছেন, কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনও প্রতিবাদ করতে পারেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর দিন থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি। পরে মমতা তার ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে ডেপুটি স্পিকার করেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও রামপুরহাট কেন্দ্রে তিনি প্রার্থী হন। তবে এবার আর জিততে পারেননি। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস দু’ভাগে ভাগ হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলও ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তবে বীরভূমের রাজনীতিতে তিনি অনুব্রতের বিরোধী শিবিরেই ছিলেন।
