কাপ্তাই লেক দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টের

ফন্ট সাইজ:

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেকের প্রকৃত সীমানা জরিপ করে লেকের ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা ও সেগুলোর মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা আগামী ৪ মাসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৬ই জানুয়ারি ২০২৭, প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজমী। আদালতের আদেশে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। কাপ্তাই লেকে অবৈধ দখল ও দূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ই অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং কাপ্তাই লেক জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রকৃত অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করতে সুনির্দিষ্ট জরিপের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জরিপ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হলে তিনি জরিপ অধিদপ্তরের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরপিবি’র পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আবেদনে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে লেকের ভেতরে থাকা অবৈধ দখলদারদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার আবেদনটি দাখিল করা হয়।

শুনানিতে এইচআরপিবি’র পক্ষে সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে লেকের বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে অনেকে স্থাপনা নির্মাণ ও বসবাস করছেন। একইসঙ্গে লেকে দূষণও হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বর্তমানে অনেক অবৈধ দখলদার তাদের মালিকানা দাবি করায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে জরিপের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।